শেষ সম্বল বিক্রি করেও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন না বাবা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিন গড্ডিমারী গ্রামের ভ্যান চালক ফেরদৌস আলীর ৭ বছর বয়সী মেয়ে খাদিজার কুপির আগুনে শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে যায়। দীর্ঘ ২০ দিন মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে।

গত শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের নিজ বাড়িতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে শিশু খাদিজা।

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে কুপির আগুনে পুড়ে যায় শরীরের ৭০ ভাগ।

জানা গেছে, কুপির আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর ওই দিন তাকে দ্রুত হাতীবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয় লোকজন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে টাকার অভাবে নিয়ে যেতে পারছিলো না শিশু খাদিজার বাবা ভ্যান চালক ফেরদৌস।

খবর পেয়ে কয়েকজন সংবাদ কর্মী হাসপাতালে ছুটে গিয়ে শিশু খাদিজাকে নিয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রকাশ করলে বিভিন্ন জন তার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে থাকে। পরের দিন শিশু খাজিদাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় অর্থের সংকট দেখা দিলে ভ্যান চালক ফেরদৌস আলী তার আয়ের এক মাত্র সম্বল ভ্যান গাড়িটিও বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসা করেন।

শনিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা শিশু খাদিজাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরার্মশ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে ঢাকা নিয়ে না গিয়ে শিশু খাদিজাকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন ফেরদৌস আলী। অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় অর্থের কাছে হেরে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শিশু খাদিজা।

শিশু খাদিজার বাবা ভ্যান চালক ফেরদৌস আলী বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ আমি আমার সুস্থ হওয়া মেয়েটিকে হারালাম। জীবনের শেষ সম্বল ভ্যান গাড়িটিও বিক্রি করেও মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না। এখন নিজে ও স্ত্রীসহ বাকি সন্তানদের কি ভাবে আয় করে তাদের মুখে খাবার তুলে দিবো ?