বাঘায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ আটক ৪

রাজশাহীর বাঘায় আসন্ন বাউসা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রাার্থী নুর মোহাম্মদ তুফানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার ঘটনায় দলীয় প্রার্থী শফিকুর রহমান শফিকের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যানা যায়, আগামী ২৬ ডিসেম্বর বাঘা উপজেলার তিনটি ইউপিতে নির্বাচন। এ নির্বাচনে ৫নং বাউসা ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক নুর মোহাম্মদ তুফান।

নির্বাচন থেকে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলসহ ৩০/৩৫ জনের একটি দল শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাত ১২টায় বাউসা ইউনিয়নের টলটলি পাড়ায় তুফানের নিজ বাড়িতে যায়।

এ সময় তুফান বাসা থেকে বের না হলে নেতৃবৃন্দ তার বাসার সামনে অবস্থান করতে থাকেন। এমন সময় স্থানীয় দুইটি মসজিদে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয় তুফানের বাড়িতে ডাকাতরা হামলা করেছে। মাইকিং শুনে গ্রামবাসি লাঠিসোটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদেরকে ধাওয়া করে। গ্রামবাসির ধাওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকসহ অন্যান্যরা পালাতে সক্ষম হলেও মোস্তাফিজুর রহমান (২৮) ও কাজল রহমান (২০) নামে নৌকার দুই সমর্থক গ্রামবাসির হামলার শিকার হন। এতে তারা মারাত্মক আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এসময় চারটি  মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নৌকার  প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক বাদী হয়ে নয় জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর মোহাম্মদ তুফান, তাঁর সমর্থক মাহফুজুর রহমান, আকাশ ও উজ্জল সরকার।

তবে অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তুফানের ভাই ও এলাকাবাসী জানান, ভোট হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার। জনপ্রিয়তা যদি থাকে তাহলে একজন ভোট করতেই পারে। তার পরেও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ গভীর রাতে তুফানের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তাদের ডাকে বাসা থেকে বের না হওয়ায়  ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীরা রাগে তুফানের বাড়িতে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। গভীর রাতে একজন প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে হামলা করা এবং মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রচারণা শেষে ফেরার পথে নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।