মোরেলগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তবে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করেও হয়নি কোন প্রতিকার।

সরেজমিন দেখা গেছে, খাউলিয়া ইউনিয়নে ১৯৬৮ সালে স্থাপিত ১৭০নং নিশানবাড়িয়া তাছেন উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থ বছরে সরকারিভাবে নির্মিত হয় ৩ কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের এ ভবনটি। এখন জরাজীর্ণ ওই ভবনটিতে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রতিটি কক্ষ থেকে পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। ফাটলকৃত মূল ভবনের বিভিন্ন স্থানে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

বেরিয়ে গেছে ছাদের কংক্রিট রড। এর মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয় নেই স্যানিটেশন ব্যবস্থা। অস্থায়ী ভিত্তিতে কাঠের একটি টয়লেট ব্যবহার করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সুপেয় পানিরও নেই কোন ব্যবস্থা। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক মন্ডলির ৫টি পদ থাকলেও কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৩ জন।

সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেই চোঁখে পড়ে একটি কক্ষে ক্লাস চলছে ৫ম শ্রেণির। শিক্ষার্থী কারিমা আক্তার, মাহফুজ, নাহিদ হাসান, ফাতেমা আক্তারসহ একাধিকরা বলেন, এক সপ্তাহ পূর্বে ক্লাশ চলাকালীন সময় হঠাৎ ছাদ খসে পড়ে ক্লাশের মধ্যে। আল্লাহ রহমত করেছে আমাদের গায়ে পড়েনি। আমাদের এ স্কুলের ভবনের দৈন্যদশার অবসান হবে কবে এমন একাধিক প্রশ্ন তুলেন সংবাদকর্মীদের পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা।

এ সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটির বিষয় একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাবেক সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করে শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত পরিত্যাক্ত ভবন হিসেবে ঘোষণা হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, তাছেন উদ্দিন বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ভবনের তালিকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও এ উপজেলায় ৩১টি নতুন ভবনের নির্মাণাধীন কাজ চলমান রয়েছে। সয়েল টেস্টেও রয়েছে অনেক বিদ্যালয়।