শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মালিকের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় ইনিংস গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ছোট্ট যে স্কোর ছিল সেটা নিয়েই লড়াই চালিয়ে গেছে বাংলাদেশি বোলাররা। পাকিস্তানকে কাঁপিয়েও দিয়েছিল। তবে শোয়েব মালিকের অনবদ্য ফিফটিতে আর শেষ রক্ষা হয়নি। প্রথম টি-২০ তে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও নাঈম শেখের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে মাত্র ১৪১ রান। জবাবে ব্যাটে নেমে শোয়েব মালিকের ফিফটিতে ৩ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ওপেন করতে নামেন তামিম ইকবাল ও নাঈম শেখ। এই দুজন পাওয়ার প্লেতে তুলেন মাত্র ৩৫ রান। তবে এরপর যখন ব্যাট চালানোর সময় হয় তখনো তারা খোলসবন্দীই ছিলেন।

১১তম ওভারের শেষ বলে তামিম যখন আউট হন তখর বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭১। তামিম ইকবাল ৩৪ বলে করেন ৩৯ রান। এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন লিটন দাস। তিনি ছিলেন আরও ধীর। ১৩ বলে ১২ রান করে রানআউট হয়ে বিপদ বাড়িয়ে দিয়ে যান বাংলাদেশের।

এরপর বিদায় নেন নাঈমও। তিনি ৪১ বলে করেন ৪৩ রান। তাতে ১০০ রান করতেই চলে যায় ১৫ ওভার। এরপর ব্যাটে আসা আফিফ করেন ১০ বলে ৯ রান। শেষদিকে ব্যাটে আসা রিয়াদ ও সৌম্যও খেলেন ওয়ানডে স্টাইলে। তাতে ২০ ওভারে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়েও ১৪১ রানের বেশি তুলতে পারেনি বাংলাদেশ।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৪ বলে করেছেন ১৯ রান। সৌম্য সরকার ৫ বলে ৭ আর মোহাম্মদ মিথুন ৩ বলে ৫ রান করেন।

গোটা ম্যাচে ৫০টিরও বেশি ডট খেলেছে বাংলাদেশ। ১৪০ রানের মধ্যে অর্ধেক রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। তামিম ও নাঈম ছাড়া কেউ ছক্কা হাঁকাতে পারেননি।

এই ছোট সংগ্রহ ডিফেন্ড করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে টাইগার বোলাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে পাক অধিনায়ক বাবর আজমকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন শফিউল ইসলাম।

এরপর ক্রিজে সেট হওয়া মোহাম্মদ হাফিজকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ১৬ বলে করেন ১৭ রান। পাকিস্তান পাওয়ার প্লেতে তুলে ৪২ রান। তবে এরপর প্রতিরোধ গড়ে তুলেন আহসান আলি আর শোয়েব মালিক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন মূল্যবান ৪৬ রান।

১২তম ওভারে ৩২ বলে ৩৬ রান করা আলিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বিপ্লব। তবে অপরপ্রান্তে থাকা মালিক ঠিকই দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। মাঝে ১৬ রান করে ইফতেখার ম্যাচটা আরও কাছে নিয়ে যান।

তবে বিপত্তি বাধান মোস্তাফিজ। আল আমিন শফিউলরা যখন রান চাপাচ্ছিলেন তখন ফিজ এসে ২ ওভারে দিলেন ২০ রান। তাতেই ম্যাচ অনেকটা হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ১৯ রানের। মোস্তাফিজ এসে দেন ১০ রান। তাতে শেষ দুই ওভারে দরকার হয় ৯ রানের। আল আমিন ১৯তম ওভারে একটি উইকেট নিয়ে দেন মাত্র ৪ রান। তাতে শেষ ওভারে দরকার পড়ে ৫ রানের।

প্রথম তিন বলেই ওই রান নিয়ে নেয় পাকিস্তানিরা। তাতে ৩ বল আগেই হার নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

শফিউল ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট, মোস্তাফিজ ৪০ রান দিয়ে ১ উইকেট, আল আমিন ১৮ রান দিয়ে ১ উইকেট ও বিপ্লব ২৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন।