চলে গিয়েও আছেন 'বাকের ভাই'

আজ থেকে ঠিক সাতাশ বছর আগে, এমনই এক মুহূর্তে গোটা বাংলাদেশ বসেছিল টেলিভিশন সেটের সামনে। রাজধানীর ঢাকায় থমথমে একটা পরিস্থিতি ছিল সর্বত্র। শহরের মোড়ে মোড়ে ছিল পুলিশি টহল, অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য।

বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাটক 'কোথাও কেউ নেই'।
এই নাটক-এর শেষ পর্ব প্রচার হবে সেদিন, নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হবে বলে শোনা যাচ্ছে। সেই ফাঁসি ঠেকাতে রাজপথে মিছিল হয়েছে সপ্তাখানেক ধরেই, মানুষ স্লোগান দিয়েছে-  ‘কুত্তাওয়ালীর ফাঁসি চাই, বাকের ভাইয়ের মুক্তি চাই’।

হুমায়ূন আহমেদের বাড়িতে উড়োচিঠি গেছে একটি নয়, দুটি নয়, গুণে গুণে ৮০০ টি চিঠি , নাটকে বাকেরের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হওয়া বদি চরিত্রে অভিনয় করা আবদুল কাদেরকে দেয়া হয়েছে হত্যার হুমকি! একটা নাটকের জন্য এত কাণ্ড, এই ২০২১ সালে বসে কল্পনা করা যায়?

নাটকের প্রযোজক বরকতউল্লাহ খান হুমায়ূন আহমেদকে অনুরোধ করেছিলেন, শেষ পর্বের চিত্রনাট্যটা বদলানোর জন্য৷ বিকল্প একটা ক্ল্যাইম্যাক্সের শুটিংও করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের জেদের কাছে পরাস্ত হয়ে বিটিভিতে সম্প্রচার করা হলো সেই পর্বটাই, যেখানে মিথ্যা মামলায় বাকেরের ফাঁসি হয়।
পরদিন দেশের নানা জায়গায় বাকের ভাইয়ের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আয়োজন করা হয়েছিল কুলখানির।

এরপর পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় কত জল গড়িয়ে গেল। 'কোথাও কেউ নেই' এর তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তার ধারেকাছে যেতে পারলো না আর কোন নাটক। বাকের ভাইয়ের লিগ্যাসিও ছুঁতে পারলো না কেউ। আজ কোথাও কেউ নেই নাটকের শেষ পর্ব সম্প্রচারের সাতাশ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
বাংলাদেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে 'কোথাও কেউ নেই' এর মতো নাটক কখনও আসেনি, আর কখনও আসবেও না...