দেশবরেণ্য অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ আর নেই

এক সময়ের রূপালী পর্দার নায়িকা দেশবরেণ্য অভিনেত্রী শ্রদ্ধেয় শর্মিলী আহমেদ আর নেই। আজ ৮ জুলাই, শুক্রবার ভোর বেলায় তিনি রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় ইন্তেকাল করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই ছোট বোন অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি।


এক সময়ের রূপালী পর্দার নায়িকা ছিলেন শর্মিলী আহমেদ। পরবর্তীতে ছোট পর্দার জনপ্রিয় মা, দাদী কিংবা ভাবী- এসব ধরনের চরিত্রেই সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে নিজের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেনশর্মিলী আহমেদ।


শর্মিলী আহমেদ ১৯৪৭ সালে মুর্শিদাবাদের বেলুর চাক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী পিএন গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এই গুণী শিল্পী যখন অভিনয় শুরু করেন তখন এদেশে ছিল উর্দু ছবির জোয়ার। শর্মিলী আহমেদও অভিনয় করেন ‘জুগনু’, ‘পাঞ্চি বাউরা’সহ বেশ কিছু উর্দু ছবিতে।


অভিনয়ের রঙিন ভুবনে তার পথচলা বেশ দীর্ঘ ছিল। অভিনয় জাদু দিয়ে বাংলার কোটি দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। ১৯৬৪ সালে তিনি তার অভিনয় পেশা শুরু করেন। সূচনা হয়েছিল বেতারের মাধ্যমে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘দম্পতি’-তে অভিনয় করেছেন। ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ মহসিন পরিচালিত ‘আগুন’ সিনেমায় মায়ের ভূমিকায় প্রথম অভিনয় করেন। সেই থেকে তিনি নিরলসভাবে মমতাময়ী মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন।


শর্মিলী আহমেদ অভিনয়ের বাইরে বেশকিছু পণ্যের বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েছিলেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন তিনি।


গুণী এই শিল্পী অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘দহন’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ১৯৮৫ সালে বাচসাস পুরস্কার পান তিনি। এর বাইরেও এ অভিনেত্রী বিভিন্ন সংগঠন থেকে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ঋতিক ঘটক স্মৃতি পুরস্কার, অনন্যা পুরস্কার ও আলোকিত নারী পুরস্কার।


শর্মিলী আহমেদ যখন পর্দায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতেন, তখন দর্শকরা তার মধ্যে নিজ মায়ের অবয়ব খুঁজে পেত। মিষ্টভাষী এই শিল্পী এক মেয়ে তনিমা। তার স্বামী প্রয়াত ইঞ্জিনিয়ার রাকিব উদ্দিন আহমেদ সৌখিন চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক ছিলেন। তিনি অসংখ্য সরকারি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেছেন। তিনি ‘পাঞ্চি বাউরা’ ও ‘পলাতক’ নামে দু’টি সিনেমা পরিচালনা করেন। ছোট পর্দার আরেক জনপ্রিয় মুখ ওয়াহিদা মল্লিক জলি তার ছোট বোন।


বাংলা চলচ্চিত্রে শর্মিলী আহমেদের অভিষেক হয় প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। সেই সময় সুপার-ডুপার হিট হয় সিনেমাটি। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যস্ত হয়ে পড়েন চলচ্চিত্র অভিনয় নিয়ে। একে একে ‘আগুন’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘আকর্ষণ’সহ প্রায় ১৫০টি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। চলচ্চিত্রের প্রতি তার ছিল অন্যরকম ভালোবাসা।


শ্রদ্ধেয়শর্মিলী আহমেদের পরলোকগমনে গভীর শোক ও অতল শ্রদ্ধা রইল তার প্রতি।