বর্ষায় মশা কেন গুরুতর সমস্যা?

প্রতিবছর বর্ষাকালে মশার কামড়ের কারণে বহু মানুষ নানা অসুখে আক্রান্ত হন। র্ষাকালে অনেক অসুখ বিসুখের প্রবণতা লেগেই থাকে। এই সময় পানিবাহিত অনেক রোগের প্রকোপ বাড়ে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মশার উৎপাত।


এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে মশা থেকে ২০টির মত রোগ ছড়ায়। পুরো পৃথিবীতে কীটপতঙ্গের আক্রমণে প্রতিবছর যত মানুষ মারা যান, তাদের মধ্যে মশাবাহিত রোগে মারা যান সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ।


একনজরে দেখে নেওয়া যাক, বর্ষাকালে মশার কামড়ে কোন কোন অসুখ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


১. ডেঙ্গু- বর্ষাকালে মশা কামড়ালে ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না করলে ডেঙ্গু প্রাণঘাতীও হতে পারে। প্রচন্ড মাত্রায় জ্বর আর তার সঙ্গে নানা উপসর্গ দেখা দেয় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে। এই সময়ে তাই খুব সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।


২. চিকুনগুনিয়া- ডেঙ্গুর মতোই বর্ষাকালে চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। চিকুনগুনিয়া হয়েছে কিনা বোঝার উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, এই রোগ দেখা দিলে জ্বর ও গাঁটে ব্যথা হতে পারে।


৩. ম্যালেরিয়া- বর্ষাকালে প্রচুর মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। জ্বর, পেশিতে যন্ত্রণা, কাঁপুনি এর অন্যতম লক্ষণ। তার সঙ্গে শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই রোগ থেকে বাঁচতে আশেপাশে কোনওভাবে পানি জমতে দিলে চলবে না।


৪. টাইফয়েড- জ্বর, মাথার যন্ত্রণা, দুর্বলভাব, সারা গায়ে ব্যথা, গলায় ব্যথা, এসবই টাইফয়েডের লক্ষণ। আর বর্ষাকালে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে। লক্ষণগুলি দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন।


৫.ফাইলেরিয়া
কিউলেক্স মশার দুটি প্রজাতি এবং ম্যানসোনিয়া মশার একটি প্রজাতির মাধ্যমে বাংলাদেশে ফাইলেরিয়া রোগ ছডায়। ফাইলেরিয়া রোগে মানুষের হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। একে স্থানীয়ভাবে গোদ রোগও বলা হয়।


৬.ভাইরাল ফিভার- শুধু বর্ষাকালেই নয়, সারাবছরই ভাইরাল ফিভারের শঙ্কা থাকে। ঠান্ডা লাগা, কাঁপুনি, জ্বর, কাশি, সর্দি, গলায় ব্যথা এসবই ভাইরাল ফিভারের লক্ষণ।


ঘরে মশারি টাঙিয়ে, কয়েল জ্বালিয়েও নিস্তার পাওয়া যায় না। মশা তাড়াতে বহু মানুষ বহু পদ্ধতি মেনে চলেন। তারপরও প্রতিবছর বর্ষাকালে মশার কামড়ের কারণে বহু মানুষ নানা অসুখে আক্রান্ত হন।


মশাবাহিত রোগ থেকে সুস্থ থাকার কয়েকটি উপায়


১। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার এই দুইটি রোগের জন্যই দায়ী এডিস মশা সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার আগে এডিস কামড়ায়। ফলে এই দুই সময়ে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখতে হবে।
২। ঘুমানোর সময় মশারি খাটিয়ে ঘুমাতে হবে।
৩। বাড়ির ছাদে বা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনে, বাতিল টায়ার কিংবা প্লাস্টিক কন্টেইনার- কোথাও যাতে তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি পানি জমা না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। মশার কামড় থেকে বাঁচতে নানা ধরণের রিপেলেন্ট অর্থাৎ মশা তাড়ানোর পণ্য যেমন বিভিন্ন ধরণের কয়েল, স্প্রে, ক্রিম জাতীয় পণ্য ব্যবহার করা, তবে এর মাত্রা ও প্রয়োগ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।


এগুলো সবই মশাবাহিত কোন রোগে আক্রান্ত হবার আগের সতর্কতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।