কাঁচা আদার সঙ্গে ছোলা খেলে যা হবে

ছোলা খুবই পরিচিত একটি খাবার। ছোলা-মুড়ি সুস্বাদু হিসেবে সবার কাছেই পরিচিত। তবে অনেকেই জানেন না কাঁচা ছোলার গুনাগুণ সম্পর্কে। আসুন আজ জেনে নেই কাঁচা ছোলার গুণাগুনের ব্যাপারে।

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন- বি১, এবং বি২, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস। আরও আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, যা দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীরে শক্তির জোগান দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তবে ছোলার ফ্যাট বেশিরভাগই আনস্যাচুরেটেড। এ ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেও ক্ষতিকারক নয়। বরং রক্তের চর্বি কমিয়ে ফেলতে ভূমিকা রাখে।

ছোলা খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই হজম হয়। ছোলার আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। ছোলায় বেশ ভালো পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড থাকায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

খাদ্যনালিতে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করে ছোলা। এটির শর্করা গ্লুকোজ হয়ে দ্রুত রক্তে যায় না। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য ছোলা খুবই উপকারী খাবার।

কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক গঠন হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র ৫ গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে।

ছোলা মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজের চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়।

আবার তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। কারণ ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।

আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয়, যে সকল অল্পবয়সী নারী বেশি পরিমাণে ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খান, তাদের হাইপারটেনশনের প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।