ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুসকি দূর করার উপায়

খুসকি চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিরাট একটা সমস্যা। অত্যধিক মাত্রায় চুল ঝরে যাওয়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া বা বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাল্প ইনফেকশন-এর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়ি এই খুসকি।

খুসকির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে বাজারচলতি নানা ধরনের শ্যাম্পু বা লোশন ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু এগুলিতে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে কখনও কখনও উল্টে চুলেরই ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আর তাতে অকালে টাক পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাহলে উপায়! চিন্তার কিছু নেই। জেনে নেওয়া যাক এমন বেশ কয়েকটি কার্যকরী ঘরোয়া

নারকেল তেল: নারকেল তেল খুসকির প্রকোপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী! নারকেল তেল চুলের গোড়া ময়েশ্চারাইজ করে খুসকি এবং স্ক্যাল্প ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে অন্তত দু’বার চুলের গোড়ায় সামান্য উষ্ণ নারকেল তেল দিয়ে মালিশ করতে পারলে খুসকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

টকদই: খুসকির সমস্যা থেকে বাচঁতে টকদই বেশ কার্যকরী। খুসকি দূর করতে টকদই মাথার ত্বকে মিনিট দশেক ধরে ভালভাবে মালিশ করুন। এরপর ১০ মিনিট রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। খুসকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত দু’বার এই ভাবে চুলে টকদই ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

পেঁয়াজের রস: দু’টো মাঝারি মাপের পেঁয়াজ ভাল করে বেটে এক মগ জলে (অন্তত ৩০০-৩৫০ মিলিলিটার জলে) মিশিয়ে নিন। মাথায় এই পেঁয়াজের রস ভাল করে মাখিয়ে মিনিট পনেরো মালিশ করুন। এরপর ৫ মিনিট রেখে উষ্ণ জল দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে দু’-তিন বার পেঁয়াজের রস মাথায় মাখলে খুসকির সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পাবেন।

মেথি: খুসকির সমস্যার সমাধানে কাজা লাগাতে পারেন মেথি। সারারাত দু’-তিন চামচ মেথি জলে ভিজিয়ে রেখে দিন। সকালে মেথির থেকে জল ছেঁকে নিয়ে ভাল করে বেটে নিন। তবে ছেঁকে নেওয়া জল ফেলে দেবেন না। এ বার বেটে নেয়া মেথি চুলের গোঁড়ায়, মাথার ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ঘণ্টা খানেক রেখে চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর মেথি ভেজানো জল দিয়ে আরও একবার চুল ধুয়ে নিন। এ ভাবে সপ্তাহে অন্তত দু’বার মেথি-মালিশ করলে খুসকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাওয়া যাবে।

পাতিলেবুর রস: দু’ চামচ পাতিলেবুর রস এক কাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে মিনিট পাঁচেক ভালভাবে মালিশ করুন। তার পর চুল ধুয়ে ফেলুন। খুসকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত দু’বার এই ভাবে চুলে পাতিলেবু ব্যবহার করে দেখুন। ফল পাবেন হাতেনাতে।