থ্রি ‘ডি’ মেনে চললে ফিট ডায়াবেটিস রোগী

ডায়েট (পরিমিত খাবার), ড্রাগ (নিয়মিত অসুধ সেবন) ও ডিসিপ্লিন (নিয়মানুবর্তিতা) এই তিন ‘ডি’র নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত একজন রোগী ফিট হয়ে জীবনযাপন করতে পারেন। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি ‘শৃঙ্খলাই জীবন’ স্লোগানে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের সচেতন করার প্রয়াস চালাচ্ছে কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতাল।

কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও কক্সবাজার ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমদ জানান, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়েছেন প্রায় তিন লাখ ডায়াবেটিস আক্রান্ত নারী-পুরুষ। এদের মাঝে হাসপাতালের নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। ৭০ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধিত একজন রোগী ডায়াবেটিসের চিকিৎসার যাবতীয় নিয়মাবলী সমৃদ্ধ একটি বই পান। সেখানেই তার নিত্যদিনের কর্ম লিপিবদ্ধ করে নির্ধারিত দিনে এসে তা চিকিৎসককে উপস্থাপন করেন। তার প্রতিদিনের স্ট্যাটাস লিপিবদ্ধ থাকায় তার ডায়াবেটিস কেমন তা সহজে নির্ণয় করতে পারেন চিকিৎসক। সেখানেই থ্রি ‘ডি’ সম্পর্কে রোগীকে জোর দেয়া হয়।

কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত সেন গুপ্ত বলেন, ৩০ টাকায় একটি টিকিট নিয়ে খালি পেটে ও ভরা পেটে দুটি পরীক্ষার জন্য ১২০ টাকাসহ সর্বমোট ১৫০ টাকায় একজন রোগী সেবা পান। কারও ডায়াবেটিস ধরা পড়লে রোগ রিলেটেড অন্য পরীক্ষাগুলোও বাইরের প্যাথলজি থেকে দুই তৃতীয়াংশ কম ফিতে করে দেয়া হয়। এছাড়া ২৫ বছর বয়সে কোনো নারী-পুরুষের ডায়াবেটিস ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট রোগী যদি দরিদ্র হন হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাকে ফ্রি ইনসুলিন দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, একটা সময় ভাবা হতো ডায়াবেটিস শহুরে জীবন যাপন করা বিত্তবান মানুষের রোগ। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে। প্রত্যন্ত গ্রামের খেটে খাওয়া অনেকে মানুষও নীরব ঘাতক এ রোগের হাত থেকে বাঁচতে পারছেন না। এমন অনেক রোগী শনাক্ত করা হয়েছে যাদের স্বাভাবিকভাবেই এ রোগ হওয়ার কথা ছিল না।
রামু সদরের আবদুর রহিম (৪৭) জানান, শরীর অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে গিয়েই ধরা পড়ে ডায়াবেটিস। প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতালের পরামর্শে শৃঙ্খলায় চলতে পারায় রোগটা নিয়ন্ত্রণে রেখে সব কাজ করছি।

কক্সবাজার ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই এখন ডায়াবেটিসের গ্রাসে পড়ছেন। যান্ত্রিকতার যুগে এ রোগ ক্রমে বিস্তার হচ্ছে। তাই সচেতনতা এবং নিয়মানুবর্তিতায় এ রোগকে দমিয়ে রাখা যায়। তাই ন্যূনতম ফিতে চিকিৎসার মাধ্যমে আমরা বলতে গেলে সচেতনতা কার্যক্রমই চালাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এ উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চলবে। এ কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হল ডায়াবেটিক সমিতির মাধ্যমে দেশব্যাপী ডায়াবেটিস বিষয়ক একটি জরিপ পরিচালনার পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও এর জটিলতার বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরি করা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা হতে বেলা ২টা পর্যন্ত কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতালে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।