দুধ-কলা একসঙ্গে খেলে কি হয়?

পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে দুধের নাম। নিয়মিত দুধ পান করলে শরীরের নানা ঘাটতি দূর করা সম্ভব। দুধ ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস। এদিকে কলায় রয়েছে আয়রন। আয়রন রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন তৈরিতে কাজ করে। আয়রনের ঘাটতিতে রক্তস্বল্পতা হয়। দিনে দুটি করে কলা খেলে রক্তের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে।

দুধ ও কলা একসাথে খেলে আপনার শরীরের কি উপকার করে জানেন? জানলে চমকে যাবেন! যদি দুটোই একই সাথে খাওয়া হয় তবে কিন্তু উপকারিতা বা লাভ আরও বেড়ে যায়।

চলুন জানা যাক এর উপকারিতা-

ক্যালরি:

এই খাবারটিতে প্রচুর ক্যালরি আছে। সাধারণত তিনটি কলা ও এক কাপ ফ্যাটমুক্ত দুধ খেতে হয়। কলা ও দুধ আগে পরেও খাওয়া যায়। এটি আপনার ত্বক মসৃণ করবে। তবে এর পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হয়। এর দ্বারা আপনি দৈনিক এক হাজারের মত ক্যালরি পাবেন। প্রতিটি কলায় ১০০ ক্যালরি শক্তি থাকে। আর এক কাপ দুধে ৮০ থেকেও বেশি ক্যালরি থাকে। তাই দৈনিক তিনবার ৯০০ ক্যালরি পাওয়া যায়। এই ক্যালরি ওজন কমাতে সহায়ক।

ত্বক ও দাঁতের যত্নে:

কলা-দুধ ডায়েট ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। ব্রণের চিহ্ন দূর করে। দাঁত সাদা করতে এটি খুবই কার্যকরি। এটি আপনার সৌন্দর্য বাড়াতে সক্ষম।

পুষ্টিতে ভরপুর কলা:

কলায় প্রচুর ভিটামিন এ, বি, সি ও ই রয়েছে। এতে খনিজ, পটাশিয়াম, জিংক, আয়রন রয়েছে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারি।

ফ্যাটমুক্ত দুধের গুণ:

এতে চর্বির মাত্রা কম বা থাকেই না। তাই এটি কোলোস্টেরল কমাতে খুবই উত্তম আহার। ফ্যাটমুক্ত দুধে ফ্যাট বা চর্বি ছাড়া বাকি উপাদানগুলো যথাযথ পরিমাণে থাকে। দুধের প্রোটিন মাংসপেশী মজবুত করে। যখন দুধ-কলা একসাথে খাওয়া হয় তখন শরীরে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার অথবা খনিজ পদার্থের যোগান হয়। এই ডায়েট প্রোগ্রামে কোন ফ্যাট থাকে না। এই খাবার একবার খেলে তিন চারদিনের শক্তির যোগান হয়ে যায়।

সাবধানতা:

ওজন কমানোর জন্য আপনি শুধু এই কলা-দুধ ডায়েটের উপর নির্ভর করতে পারেন। তবে এতে শরীরে ক্যালরির যোগান কিছুটা কম হওয়ায় দূর্বল লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে দিনে দুইবার খেতে হবে।

আর একবার অল্পকিছু স্বাভাবিক খাবার (ভাত ও অন্যান্য তরকারি) খেয়ে যান। মহিলাদের পিরিয়ডের সময় এই প্রোগ্রাম পরিহার করতে হবে। কারণ এই প্রোগ্রামে আয়রনের ঘাটতি আছে।