নিখুঁত চোয়াল পেতে পেশির ব্যায়াম

বেশিরভাগ মানুষই নিখুঁত চোয়াল পেতে চান। কিন্তু গলা, চোয়াল বা মুখের মেদ কমানো সবচেয়ে কঠিন। কারণ শরীরের এই অংশের পেশির ব্যয়াম করা কঠিন। তবু কয়েকটি উপায় জানা থাকলে এই মেদও কমানো যায়।


বয়স বাড়লে চোয়াল ও গলায় মেদ জমার আশঙ্কা বেড়ে যায়। যার কারণে অনেকের চোয়ালের আকৃতি বদলে যেতে থাকে। এটিকে বলা হয় ডাবল চিন।


মুখের বাড়তি মেদের কারণে হাঁ করে ঘুমানোর প্রবণতা বাড়ে। ফলে দাঁত ও মাড়ির সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।


শরীরের মতোই মুখে যাতে মেদ না জমে, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। এর জন্য মুখের কয়েকটি ব্যায়াম করতে পারেন।


উপায়গুলো কী কী—


ঘাড় তুলে চিবোনো : এটি করার জন্য প্রথমেই ঘাড় তুলে ছাদের দিকে তাকান। এবার নিচের দাঁতগুলোকে এমনভাবে নাড়ান, মনে হয় যেন কিছু চিবোচ্ছেন। এভাবে চালিয়ে যান। ১০ সেকেন্ড এরকম করার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। তারপর ১ মিনিট পরে আবার করুন। দিনে অন্তত পাঁচবার এমন করলে মেদ কমবে।


চুমুর মতো ভঙ্গি করুন : গাল দুটি দুপাশ দিয়ে টেনে ভেতরে ঢোকান। এবার ঠোঁট দুটি চুমু খাওয়ার মতো করুন। এতেও গালের মেদ কমবে। গলার পেশিতেও টান পড়বে। ফলে মেদও কমে যাবে।


জিভের ব্যায়াম : এক্ষেত্রেও ঘাড়া হালকা উপরের দিকে তুলুন। তারপর জিভ যত দূর সম্ভব বাইরে বের করুন। তারপরে জিভ দিয়ে নাক স্পর্ষ করার মতো ভঙ্গি করুন। এতে জিভের লাগোয়া পেশির ব্যায়াম হবে। তাতে কমবে মুখের মেদ।


প্রাণ খুলে হাসুন : প্রতিদিন দুই বেলা ৫ থেকে ৭ মিনিট করে হাসুন। তাতে গোটা মুখের পেশির ব্যায়াম হবে। ফলে মুখের মেদ কমবে।


দুটি ইংরেজি অক্ষর বলুন : এক্ষেত্রে প্রথমেই কাঠঠোকরার মতো ভঙ্গি করতে হবে। একবার মাথা ধীরে ধীরে পেছন দিকে নিতে হবে। আবার সামনে ঝোঁকাতে হবে। সামনে ঝোঁকানোর সময় জোরে বলতে হবে ‘এক্স’। আর মাথা পেছন দিকে হেলানোর সময়ে জোরে বলতে হবে ‘কিউ’। টানা ১-২ মিনিট এটি করতে হবে। দিনের মাথায় ৫-৬ বার এমন করলে কমবে গলার মেদ।


ফেস লিফট : উপরের ঠোঁট ও চিবুক হাত দিয়ে ধরে উপর দিকে তুলে রাখুন। ১০ সেকেন্ড এই ভাবে থাকুন। নিয়ম করে দিনে বার ১০ এই ব্যায়াম করলে মুখে বলিরেখা পড়া অনেকটাই আটকানো যাবে।


চুইংগাম চিবোন : চুইংগাম চিবোলে মুখের বাড়তি মেদ ঝরে যায়। এতে গালের পেশির ব্যায়াম হবে। চোয়াল তীক্ষ্ণ হবে। তবে চিনি আছে, এমন চুইংগাম চিবোলে ডায়াবিটিস জাতীয় সমস্যা বাড়তে পারে। তার চেয়ে চিনিবিহীন গাম চিবোনো ভাল।


ভ্রু কুঁচকে কথা বলা : ভ্রু কুঁচকে কথা বলা অনেকেরই পছন্দ নয়। কিন্তু মুখের মেদ কমাতে এর জুড়ি নেই। তর্জনী ও মধ্যমার সাহায্যে ভ্রু উপরে ও নীচে নামাতে হবে। ৩ থেকে ৫ সেট দিনে ১০ বার অভ্যাস করতে পারলে মেদ ও বলিরেখা, দুই-ই কমবে।


পাউট : সেলফি তোলার জন্যে নয়, মুখের পেশি টানটান সতেজ ও নির্মেদ রাখার অন্যতম হাতিয়ার পাউট বা মাছের মতো ঠোঁট করা। দিনে ৭ থেকে ১০ বার এই ব্যায়ামটি করলে মুখে মেদ জমার হাত থেকে মুক্তি নিশ্চিত।