কোনটি ফুসফুসের জটিলতার লক্ষণ? করুন সহজ ব্যায়াম

বুকে হাল্কা ব্যথা। কিংবা মাঝেমধ্যেই ঠান্ডা লেগে যাওয়া। এ তো হয়েই থাকে। ফুসফুসে সংক্রমণ হলেও সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে ভুল করি আমরা। কোভিডের পর থেকেই চিকিৎসকরা ফুসফুসের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার কথা বলছেন। সতর্ক হতে হবে যে কোনও সঙ্কেত পেলেই। যে সব অস্বস্তিকে সাধারণত অবহেলাই করা হয়ে থাকে, সে সব বিষয়েও হতে হবে সাবধান। ধূমপানের অভ্যাস না থাকলেও বুকে ব্যথা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।


কোন লক্ষণ ফুসফুসের জটিলতার লক্ষণ?


১) রোজ ঘুম থেকে উঠেই কাঁধ-পিঠে তীব্র যন্ত্রণা হয়? তা হলে বুঝতে হবে, এ সাধারণ ক্লান্তি নয়। অনেক সময়েই শরীরের এক অংশে সমস্যা হলে একেবারে অন্য কোনও অঙ্গে অসুবিধা দেখা দেয়। এই ধরনের ব্যথাকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলে ‘রেফার্ড পেন’।


২) কথায় কথায় সর্দি-কাশি হচ্ছে? এমন কিন্তু স্বাভাবিক নয়। যদি কিছু দিন অন্তর ঠান্ডা লেগে থাকে, তবে বুঝতে হবে শরীরের ভিতরে কোনও সমস্যা আছে। অনেকের আবার কাশি হলে কমতেই চায় না। এমন প্রবণতা দেখলে সাবধান হওয়া জরুরি।


৩) শ্বাস নিতে গেলেই মনে হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে? এই সমস্যাও অবহেলা করার মতো নয়। বুঝতে হবে ফুসফুস জানান দিচ্ছে, ভিতরে কোনও সমস্যা আছে। ফুসফুসের আশপাশে প্রদাহ সৃষ্টি হলে বা সংক্রমণ হলে এমন অনেক সময়েই হতে পারে। সর্ব ক্ষণ ক্লান্ত লাগলে যেমন উদ্বেগ, অবসাদের মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তেমন অন্য অসুখও হতে পারে। ফুসফুস ঠিক ভাবে কাজ না করলে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ঢোকে না। তা থেকেও ক্লান্তি আসতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।


৪) গলার আওয়াজ অন্য রকম লাগছে কি? সর্দি-কাশি হলে এমন সমস্যা ঘটেই থাকে। কিন্তু দিনের পর দিন যদি এমনই চলে, তবে তা ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে।


৫) কাশি কিছুতেই কমছে না? কফের সঙ্গে রক্তপাত হচ্ছে? সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফুসফুসে সংক্রমণ হলে বা কর্কট রোগ বাসা বাঁধলে এমনটা হতে পারে।


কোভিড-১৯ মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ সহায়ক অক্সিজেনের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। নীতি আয়োগের স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্য ড.ভি কে পাল মনে করেন এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে শ্বাসকষ্ট একটি সাধারণ লক্ষণ। এর মাধ্যমে অক্সিজেনের চাহিদার প্রয়োজন বোঝা যায়।


মেদান্ত গোষ্ঠীর ইন্সটিটিউট অফ চেস্ট সার্জারির ড.অরবিন্দ কুমার জানিয়েছেন ৯০ শতাংশ কোভিড রোগীর ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা হয়েই থাকে। ১০-১২ শতাংশ সংক্রমিতের নিউমোনিয়া হয়। অ্যালভেউলির লক্ষণ দেখা যায় খুব কম সংক্রমিতের। এদের মধ্যে কম সংখ্যক রোগীরই অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। রোগির সহায়ক অক্সিজেনের প্রয়োজন কমাতে শ্বাস আটকে রেখে ব্যায়াম করার পদ্ধতির চর্চা করা যেতে পারে।


কীভাবে শ্বাস আটকে রাখার ব্যায়াম সাহায্য করতে পারে?


ডঃ অরবিন্দ বলেছেন যেসব রোগীর হাল্কা উপসর্গ দেখা দেয় তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যায়াম সহায়ক হতে পারে। এইসব সংক্রমিতরা যদি এই ব্যায়ামটি করেন তাহলে তাদের সহায়ক অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়না। তবে যদি দেখা যায় কেউ দীর্ঘক্ষণ শ্বাস আটকে রাখতে পারছেন না তাহলে তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। অন্যদিকে যদি কোনো রোগী শ্বাস আটকে রাখার সময় বাড়াতে পারেন তাহলে সেটি সুস্বাস্থ্যের নিদর্শন। যাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং এখন বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এই ব্যায়ামটি করতে পারেন।


কীভাবে ব্যায়ামটি করতে হবে:


সোজা হয়ে বসুন, আপনার হাত দুটি থাইয়ের ওপর রাখুন


মুখ খুলে যতটা সম্ভব বাতাস টেনে নিন


ঠোঁট চেপে রাখুন


যতক্ষণ সম্ভব ততক্ষণ শ্বাসটা শরীরের মধ্যে রেখে দিন।


আপনি কতক্ষণ ধরে এটি আটকে রাখতে পারেন তার ওপর আপনার ফুসফুসের সুস্বাস্থ্যের দিকটি নিশ্চিত হয়।


যে কেউ এটি প্রথমে ঘন্টা খানেক ধরে পরে আরো বেশি সময় ধরে এই ব্যায়াক করতে পারেন। যাঁরা ২৫ সেকেন্ড শ্বাস আটকে রাখতে পারেন তাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে খুব জোর করে এই ব্যায়াম করবেন না।