দ্রুত বিচার আইন চালু রাখতে সংসদে বিল

বহুল আলোচিত দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়াতে সংসদে বিল উত্থাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খাঁন কামাল এ বিল উত্থাপন করেন। পরে এটি পরীক্ষা করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

২০০২ সালে দ্রুত বিচার আইন সংসদে পাস হয়। তখন এর মেয়াদ ছিল ২ বছর। পরে ৬ বারে মোট ১৫ বছর আইনটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সবশেষ ২০১৪ সালে ৫ বছর বাড়ানো হয়। গত ৯ এপ্রিল এই মেয়াদ শেষ হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে বলা হয়েছে, এই আইন আগামী ১৭ বছর পর্যন্ত চলবে। এখন ১৭-এর স্থলে সংশোধন করে ২২ বসানো হচ্ছে। ২০০২ সাল থেকে ২২ বছর হয় ২০২৪ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ আইনটি পাস হলে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে দ্রুত বিচার আইন করা হয়। তখন বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগ এর কঠোর সমালোচনা করেছিল। এরপরও বিভিন্ন সময়ে আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়, আওয়ামী লীগ সরকারও আইনটি রেখে দিচ্ছে।

আইনটি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল, চাঁদাবাজি, যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতি সাধন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও সন্ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র কেনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধ দ্রুততার সঙ্গে বিচারের জন্য এ আইন। এ আইনে দোষী প্রমাণিত হলে ২ থেকে ৫ বছর সশ্রম জেল ও জরিমানা হতে পারে। প্রতি জেলায় গঠিত এক বা একাধিক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ আইনে দায়ের মামলার বিচার চলে।

দ্রুত বিচার আইনে ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ নিষ্পত্তি করার বিধান আছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৬০ দিন সময় পাওয়া যায়।