‘এখনো মরে নাই, মার মার!’

রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রায় ৫ শতাধিক লোকজন ঘিরে রেখেছে তাসলিমা বেগমকে। কয়েকজন যুবক তাকে মারছে আর বাকিরা মার মার বলে চিৎকার করছে।

ধারণকৃত একটি মোবাইলের ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারীকে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করার পর মুহূর্তেই লোক জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। তবে স্থানীয় ৪-৫ জন যুবক তাকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছিল ও এলোপাতাড়ি লাথি দিচ্ছিল। ভিডিওর ৩-৪ মিনিটের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়।



এ ঘটনায় উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সংগ্রহ করা হয়েছে স্কুলে প্রবেশপথসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ।

এদিকে, এ ঘটনার পর রেনুর পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। লেখাপড়া শেষ করে চাকুরি করেছিলেন আড়ং, ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠানে, পড়িয়েছিলেন স্কুলেও। বিবাহ বিচ্ছেদের পর ঘরেই কাটাচ্ছিলেন অধিকাংশ সময়। উচ্চ শিক্ষিতা সংগ্রামী একজন নারীর ভাগ্যে এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছে না কেউ।



এই হত্যাকাণ্ডের জন্য গোটা সমাজকেই দায়ী করছে রেনুর পরিবার। সবকিছু ছাপিয়ে রেনুর আদরের সন্তান তুবার ভবিষ্যত নিয়েই চিন্তিত সবাই। তাসনিম তুবার বয়স মাত্র ৪ বছর। সদা চঞ্চল ফুটফুটে এই শিশু এখনও টের পায়নি ছেলেধরা গুজবে এই সমাজের মানুষরাই তার মমতাময়ী মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।



বাড্ডা থানার সূত্রে জানাগেছে, এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৫০০ জনের নামে মামলা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সংগ্রহ করা হয়েছে স্কুলে প্রবেশপথসহ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ। ওই পুটেজ দেখেই হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।



এ বিষয়ে পুলিশের বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আহমেদ হুমায়ূন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইলে ধারণকৃত কিছু ফুটেজ যাচাই-বাছাই করছি। অনেকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে মামলা যেহেতু হয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবেই।