রিফাত হত্যা মামলায় নয়া মোড়

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি রিফাত ফরাজী আদালতে দেওয়া তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে এই আবেদন করেন রিফাতের আইনজীবী।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছে।

রিফাত ফরাজী বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। এই মামলায় রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফরাজীও অন্যতম আসামি।

রিফাত ফরাজীর আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান পান্না জানান, গত ২১ জুলাই আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন রিফাত ফরাজী। একইসঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক আসামি কামরুল হাসান সায়মুন বরগুনা কারাগারে অনার্স পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তার আইনজীবী মোস্তফা কাদেরের মাধ্যমে আবেদন করেন। শুনানি শেষে পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়া সাপেক্ষে আদেশ দেবেন বলে জানান বিচারক।

আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান পান্না আরও বলেন, পুলিশ রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতারের পর নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে। তবে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করলেও মামলার মূল নথি না থাকায় ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওইদিন বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।