অঝোরে কাঁদলেন সেই এসপি হারুন

সদ্য বদলি হওয়া নারায়ণগঞ্জের আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার সময় অঝোরে কাঁদলেন।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনে তাঁকে বিদায় জানানো হয়।

হারুন অর রশিদ বলেছেন, আমার সামনে আমার সহকর্মীর মাথায় কেউ পিস্তল তাক করবে আর সেটা আমি সহ্য করবো, তা কিছুতেই হতে পারে না। তাই সেদিন আমার সহকর্মীর মাথায় পিস্তল ধরেছিল পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছেলে রাসেল। আমি তখন ভেবে দেখিনি সে সম্পদশালী নাকি শক্তিশালী। আমি আইন মোতাবেক কাজ করেছি। বিধি মোতাবেক তাকে চ্যালেঞ্জ করে তার গাড়ি আটকে মাদক ও গুলি পেয়েছি। সে অস্ত্রসহ পালিয়েছে। অথচ এখন সে বলছে আমি নাকি টাকা চেয়েছি।

হারুন আরও বলেন, আমরা (পারটেক্স গ্রুপের মালিক) তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছি। গুলশান ডিসিকেও এ ব্যাপারে অবগত করা হয়েছিল।

বিদায়ী এসপি আরও বলেন, এর আগে আনিছুর রহমান সিনহাকে আটক করেছিলাম। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে। পরদিন তাকে আদালতে প্রেরণ করবো। কিন্তু তিনি একজন ব্যবসায়ী। ভিআইপি মানুষ। তিনি এক সপ্তাহের সময় নিয়ে বললেন, এর মধ্যে ওয়ারেন্ট সব কাটাবেন। তার সম্মানটা যাতে নষ্ট না করি। ভিআইপি। সম্মানিত ব্যক্তি বলে সেদিন তাকে ছাড়া হয়। তিনিও মুচলেকা দিয়েছিলেন এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি সব মামলায় আদালতে হাজির হবেন।

তিনি বলেন, আনিছুর রহমান সিনহা কিংবা পারটেক্স গ্রুপের হাশেম সাহেব আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ তুলেছেন ওই পক্ষটি। যে পক্ষটি আমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত। যারা সন্ত্রাস করতে পারেনি। চাঁদাবাজি করতে পারেনি। মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা করতে পারেনি আমার জন্য। সেই তারাই অভিযোগ দিয়েছে। এসব তদন্ত হলে বের হয়ে আসবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

হারুন বলেন, আগামী দিনগুলোতে আমার চাকরিটা যেমন ওই রকম হয়। আমার একটাই উদ্দেশ্যে, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার যখন বিএনপির আমলে চাকরি চলে গিয়েছিল, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। জামায়াত-শিবির আমার চাকরি খেয়েছিল। আমি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির জন্য  বার বার যে ধরনের স্ট্যান্ড দরকার সে ধরনের স্ট্যান্ড নিয়েছি। এ নারায়ণগঞ্জকে ও গাজীপুরকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছে, তাদের প্রত্যেককে কঠোর হস্তে দমন করেছি।

অনুষ্ঠান শেষে এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জ ত্যাগ করেন। বিদায়ের সময় পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে বহনকারী গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজানো হয়। গাড়িটি রশি দিয়ে টেনে কিছুদূর নেওয়ার কথা থাকলেও এসপি হারুন তা করতে বারণ করেন।