শক্তি বাড়িয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে বুলবুল

নিজের শক্তি বেশ কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিল বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি।

বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। আর বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ৭১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বুলবুল।

আবহাওয়াবিদদের অনুমান, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সুন্দরবনের উপর দিয়ে, বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ওই ঘূর্ণিঝড়টির।

ভারতের আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ উপকূলের আরও কাছে আসবে ‘বুলবুল’। শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলে তা আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে। ফলে, সুন্দরবনে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস বলেন, সুন্দরবনের উপর দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঘূর্ণিঝড়টি যেতে পারে সে দিকে নজর রেখেছি। উপকূলে আছড়ে পড়লে ঘূর্ণিঝড়ের গতি অনেকটাই কমবে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।