২৪ ঘন্টার মধ্যে আঘাত হানবে বুলবুল, ৪ নম্বর সতর্কতা

বাংলাদেশের দিকেই ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। ঝড়ে প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়ার ১৬ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর ও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১শ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

আগামীকাল শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল কিংবা দুপুরের দিকে বাংলাদেশে আঘাত আনতে পারে ‘বুলবুল’।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, ঝড়ে এখন যে গতি তাতে ঝড়টি বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি শক্তি হারালে ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। যদি শক্তি বেড়ে যায়, আমরা সতর্ক সংকেত বাড়াবো। এর প্রভাবে শুক্রবার সমুদ্র উপকূলবতী এলাকাগুলোতে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানান তিনি।

সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় মাতমো গত অক্টোবরের শেষে ভিয়েতনাম হয়ে স্থলভাগে উঠে আসে। সেই ঘূর্ণিবায়ুর অবশিষ্টাংশই ইন্দোনেশিয়া পেরিয়ে ভারত মহাসাগরে এসে আবার নিম্নচাপের রূপ নেয়।

বার বার দিক বদলে নিম্নচাপটি আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এসে  বুধবার রাতে তা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। তখন এর নাম দেওয়া হয় বুলবুল।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তরের নির্ধারিত তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলের ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। বুলবুল নামটি নেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে।