স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি বাতিল

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ অপারেশন ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তর বলেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় আটটি নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সার্বিক প্রস্তুত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্দেশগুলো হলো-

১. দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন  এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের কাজ করতে বলা হয়েছে।

২. দুর্গত জেলা সমূহে ১৫৭৭টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

৩. দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত ৪৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে মেডিক্যাল টিম স্বাস্থ্যসেবা দেবে।

৪. দুর্গত জেলাগুলোতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫. কেন্দ্রীয় ওষুধাগার (সিএমএসডি) এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওষুধ মজুত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি মজুত রয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সব কিছু দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।

৬. দুর্গত এলাকায় গর্ভকালীন ও জরুরি প্রসূতি সেবার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।

৭. স্বাস্থ্য অধিদফতরে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, অপারেশন প্ল্যানের জরুরি প্রস্তুতি কর্মসূচি সার্বিক বিষয়ে সমন্বয় করছে।

৮. হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম তদরকি করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উপদ্রুত জেলাগুলোর কন্ট্রোল রুমগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৩ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনিবার (৯ নভেম্বর) ও রবিবারের (১০ নভেম্বর) ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো হলো— সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজুপর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলেছে।