আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ওসি মোয়াজ্জেম

আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আদালতে অঝোরে কাঁদলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন।

বৃহস্প‌তিবার (১৪ ন‌ভেম্বর) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদাল‌তে এ বক্তব্য দেন তি‌নি।

বক্ত‌ব্যের একপর্যা‌য়ে নি‌জের সামা‌জিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা ব‌লে আদাল‌তের সাম‌নে কাঁদ‌তে থা‌কেন ও‌সি মোয়া‌জ্জেম। কান্না থা‌মি‌য়ে প‌ড়ে আবার অসমাপ্ত বক্তব্য দেন তি‌নি।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সামাজিকভাবে এ মামলার কারণে হেয় হয়েছি অনেক। আমার ১৫ বছরের ছেলে স্কুলে যেতে পারে না। আমি ১০টা খুন করলেও এতো বড় সাজা হতো না। ৭০/৭৫ বয়সী আমার মা এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়েছেন। আমি কী অপরাধ করলাম! উনি (বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন) যদি ভিডিওটা পুরোপুরি দেখতেন, তবে এ মামলা করতেন না। উনি ভিডিও ঠিকমতো দেখেনই নাই।

তিনি বলেন, গত ৬ থেকে ৭ মাস আমাকে সারাবিশ্বে কলঙ্কিত করা হয়েছে। চাকরি থেকে আমাকে রংপুরে ক্লোজ করা হয়। আমার বিরুদ্ধে জুতা মিছিল পর্যন্ত হয়েছে। অথচ আমি এ মামলায় আইওকে (তদন্তকারী কর্মকর্তা) সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়েছি। আমার মোবাইল তার কাছে জমা দিয়েছি। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য এমন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মামলা পড়েছে যিনি আইনানুযায়ী তদন্ত করেননি। উনি (আইও) নিজেই তদন্তের প্রয়োজনে ছবি তুলেছেন।

তখন বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, আপনার জবানবন্দি গ্রহণকালে আইও কোনো ভিডিও নিয়েছেন কি-না? জবাবে ওসি মোয়াজ্জেম বলেন, না।

ওসি মোয়াজ্জেম বলেন, আমার থানায় সিসি ক্যামেরা আছে। আমি তদন্ত কর্মকর্তাকে যে স্ক্রিন শট দিয়েছি, সেখানে তারিখ দেখে তিনি ঘটনার সময় উল্লেখ করেছেন। এডিশনাল ডিআইজি ফায়েজ স্যার আমার কাছ থেকে ভিডিও নিয়েছেন। সেটা আমি তাকে হোয়াটসঅ্যাপে দিয়েছি। আমি নিজে ফেসবুক ব্যবহার করি না। শুধু ঘটনার পরদিন রাতে এসপি সাহেব ফেসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে দেন। দু’দিন পরই আমি তা আবার ডিয়েক্টিভ করে দেই।

তখন বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, মামলা দায়ের বা তদন্তের জন্য ভিডিও রেকর্ডের কোনো নির্দেশ করে কোনো আইন আছে কি-না? জবাবে মোয়াজ্জেম বলেন, না সেরকম কোনো আইন নেই। তবে টেকনোলজির আপডেটের কারণে আমরা অনেক কিছু ভিডিও ধারণ করে রাখি। এটা আমাদের প্র্যাকটিস আছে এক্ষেত্রে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের কিছু নির্দেশনাও আছে। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এরপর আদালত এ মামলার যু‌ক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২০ ন‌ভেম্বর দিন ধার্য ক‌রেন।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির এক‌টি অ‌ভি‌যোগ দা‌য়ে‌রের সময় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রা‌ফির বক্তব্য ভি‌ডিও ক‌রেন ওসি মোয়া‌জ্জেম। প‌রে সেই বক্তব্য সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্য‌মে ছ‌ড়ি‌য়ে দেওয়ার অ‌ভি‌যো‌গে সুপ্রিম কো‌র্টের আইনজীবী ব্যা‌রিস্টার সা‌য়েদুল হক সুমন বাদী হ‌য়ে সাইবার ট্রাইব্যুনা‌লে এ মামলা দা‌য়ের ক‌রেন।