সরকারই চায় না খালেদা জিয়া মুক্তি পাক: ফখরুল

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন শুনানি পিছিয়ে দেওয়ায় সর্বোচ্চ আদালত ও সরকারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

‘জামিন কোনো করুণা নয়’ এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার যে মামলা তাতে সাতদিনের মধ্যে জামিন হওয়ার কথা। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য এ কাজগুলো করা হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারই চায় না খালেদা জিয়া মুক্তি পান। সরকার প্রধানের গতকালের (বুধবার) বক্তব্যে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে- বিচার চলাকালীন একটা মামলায় তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হয়ে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সরাসরি বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

ফখরুল বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধী দলীয় নেত্রী ৭৩ বছর বয়সী ‘সবচেয়ে জনপ্রিয়’ নেতা খালেদা জিয়াকে প্রচলিত রীতি মেনে জামিন না দিয়ে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত আজকে সমস্ত জাতি শুধু হতাশই হয়নি, বিক্ষুব্ধ হয়েছে। আমরা উদ্বিগ্ন-বিক্ষুব্ধ। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতিতে গোটা জাতি আজকে উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্যে তার মুক্তিটা অবশ্যই প্রয়োজন।

‘চিকিৎসার অভাবে’ দলের চেয়ারপারসনের প্রাণহানির শংকা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার চিকিৎসা না হওয়ার ফলে স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতির সমস্ত দায়-দায়িত্ব ‘অনির্বাচিত সরকার ও সরকারপ্রধানকে’ নিতে হবে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিষয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন জমা না দেওয়া তার জামিন প্রশ্নে শুনানি পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর দিন রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।