প্রেম করো, তবে একলগে পাঁচজনের লগে কইরো না: রাষ্ট্রপতি

ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রথম সমাবর্তনের বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, তোমাদের নিয়ে অনেক খারাপ কথা শুনি। মোবাইল নিয়ে প্রেম কর। প্রেম কর, খারাপ না। একলগে পাঁচজনের লগে কইরো না। একজনের লগে প্রেম কইরা ১৫ দিন পরে আরেকজনের লগে কর, এটা করা ঠিক নয়। এর পরিণাম ভয়াবহ হচ্ছে, বিয়ে বিচ্ছেদ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি)  ঢাকার ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে বক্তব্যে নিজের এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করে আবদুল হামিদ বলেন, 'এটা দূর করতে হবে। দূর করতে হবে তোমাদের। তোমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। যারা এমন করে তাদের অ্যাভয়েড করতে হবে।'

হাতে হাতে স্মার্টফোন আসায় এখন যে কোনো ঘটনায় সমস্যার সমাধানের দিকে না গিয়ে ঢালাওভাবে ভিডিও করার প্রবণতা নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, 'আমরা দেখেছি, রাস্তায় একটা গাড়ি এক্সিডেন্ট করল। আমরা হয়ত দাঁড়িয়ে আছি বা গাড়িতে… মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ল, আমরা গাড়ি থেকে নেমে বাঁচানোর জন্য গিয়েছি। এখন হোন্ডা যখন এক্সিডেন্ট করে তখন আগে ভিডিও করে। কেমনে পড়ল সেইডা ভিডিও করে, তাকে বাঁচাবে, সাহায্য করবে, তার মধ্যে নেই।'

এ প্রসঙ্গে বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই কয়দিন আগে বনানীতে আগুন লাগল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যেতেই পারে না, পাবলিকের ভিড়। সবাই ভিডিও করছে। হোয়াট ননসেন্স। এ ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। ছাত্রদের এসব বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রথম সমাবর্তনে বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেন আবদুল হামিদ।

বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'বাংলাদেশে  উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখলেও সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বা সব উদ্যোক্তাই যে নিয়ম নীতি মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন, তা নয়। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্যিক মনোভাবাপন্ন উদ্যোক্তাদের জন্য আরও অনেক লাভজনক খাত রয়েছে। আপনারা সেসব খাতে বিনিয়োগ করে নিজেরা লাভবান হতে পারেন আবার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন। আমরা উচ্চশিক্ষার প্রসার চাই। তবে সার্টিফিকেট সর্বস্ব উচ্চশিক্ষা চাই না। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সু্ষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্র ভর্তি থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশ্ন প্রণয়ন ও খাতা মূল্যায়ন, কারিকুলাম প্রণয়ন ও টিউশন ফি নির্ধারণসহ সকল বিষয়ে নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে।

সমাবর্তনে মোট এক হাজার ৬২০ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এদের মধ্যে দুইজনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, দুইজনকে ভাইস চ্যান্সেলর পদক, পাঁচজনকে ডিনস পদক এবং পাঁচজনকে ট্রাস্টি পদক দেওয়া হয়।