করোনাভাইরাস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই নির্দেশনা স্থগিত

করোনাভাইরাসের উপসর্গ আছে এমন রোগীকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) ছাড়াই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে ওই নির্দেশিকা স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার (২৫ মার্চ) এ নির্দেশনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এই নির্দেশিকায় বলা হয়, ‌যদি কোনো রোগীর কোভিড-১৯–এর লক্ষণ থাকে, তবে প্রথম চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন এবং প্রয়োজনে পিপিই পরিধানকৃত দ্বিতীয় চিকিৎসকের কাছে প্রেরণ করবেন এবং তিনি পিপিই পরিহিত অবস্থায় রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করিবেন।

ওই আদেশে আরও বলা হয়, সরকারী ও বেসরকারি সকল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক কোনো রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন না।

কিন্তু এতে প্রথম চিকিৎসকের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আশঙ্কায় ব্যাপক সমালোচনা ওঠে। চিকিৎসকদের কেউ কেউ এ নিয়ে আপত্তি জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সন্ধ্যায় স্থগিত করা হয় ওই নির্দেশনা।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন পাঁচজন।

এ ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।