'প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতি হতাশ'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন তার সমালোচনা করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে করোনার বৈশ্বিক মহামারিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিঃসন্দেহে জাতিকে হতাশ করেছে।

তিনি বলেন, গত ২৪ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তীতে অর্থনৈতিক দুর্যোগ সামাল দিতে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম যার প্রতিফলন ঘটলে আমরা এই ভয়াবহ দুর্যোগ সামাল দিতে পারতাম।

বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব কথা বলেন মান্না।

মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেয়ার জন্য কোনো উদ্যোগের কথা ছিল না। এত বড় বৈশ্বিক দুর্যোগের সময়ে দেশের প্রান্তিক জনগণের কথা মাথায় রেখে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি করোনা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু উদ্যোগের কথা বলেছেন যার আদৌ কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর থেকেই দেশের বিমান এবং স্থলবন্দরগুলোতে ব্যবস্থা নেয়ার যে কথা তিনি বলেছেন তা বাস্তবতা বিবর্জিত। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন দেশে করোনা চিকিৎসার উপকরণ, পরীক্ষার কিট, চিকিৎসকদের পিপিই সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বস্তুত আমাদের সরকার একটি বিশেষ দিবসকে সামনে রেখে করোনাকে আড়াল করে রেখেছিল।

মান্না আরও বলেন, সর্বশেষ গণপরিবহন বন্ধ না করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় যে পরিস্থিতি হয়েছে তা আমরা সবাই দেখেছি। এইসব কারণেই করোনাভাইরাস এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের পর্যায়ে চলে গেছে। নিম্নবিত্ত জনগণের জন্য কোনো আপদকালীন কর্মসূচির কথা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসেনি। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে জনগণ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যে আশা খুঁজতে চেয়েছিল তার ছিঁটেফোটাও ছিল না তার ভাষণে। আর এ কারণেই আজ জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে করোনাসহ সকল দুর্যোগ মোকাবিলা এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। করোনাভাইরাস এবং পরবর্তীতে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় নাগরিক ঐক্য জনগণের পাশে থাকবে।