করোনায় বিভিন্ন দেশে ৫০ বাংলাদেশির মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান সংখ্যা ৪২ হাজারেরও বেশি। চীনের উহান শহর থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে বাংলাদেশেও মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। আর বিদেশের মাটিতে এ ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ বাংলাদেশি।

এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেছেন ৩০ বাংলাদেশি। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ১১, ইতালিতে ২, কাতারে ২, সৌদি আরবে ২, স্পেনে ১, লিবিয়ায় ১ এবং গাম্বিয়ায় ১ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর বেরিয়েছে।

এদিকে বিদেশে ২০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। লোকাল কমিউনিটি, সাংবাদিক, বাংলাদেশ মিশন এবং ঢাকায় সরকারি অনানুষ্ঠানিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুধুমাত্র নিউইয়র্কেই ৩০ বাংলাদেশি মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন ফটো সাংবাদিকও রয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মিশিগানের ডেট্রয়েট সিটিতে একজন ও নিউজার্সির প্যাটারসনে একজন বাংলাদেশি নারী করোনায় মারা গেছেন।

সোমবার স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবাসী ফটো সাংবাদিক এ হাই স্বপন। শারীরিক নানা জটিলতায় ভোগা স্বপন করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুইন্সের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাছাড়া গত দু’দিনে যারা মারা গেছেন তার মধ্যে রয়েছেন- আইটি প্রফেশনাল মির্জা নুরুল হুদা (৪৪), মোহাম্মদ আনিসুর রহমান (৭৬), জায়েদ আলম (৪৫), মোতাব্বির চৌধুরী (৬৮), বিজিত কুমার সাহা (৩৮), মোহাম্মদ শিপন মোসেন (৫৬) শফিকুর রহমান মজুমদার ও কাজী কায়কোবাদ।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মারা যাওয়ার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সোমবার পর্যন্ত ১১ বাংলাদেশি মারা গেছেন। এর মধ্যে ১০ জনই লন্ডনে আর একজন বার্মিংহামে।

কাতারে দুইজন প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে আবুল কাশেম (৫৮) নামের এক প্রবাসী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা গেছেন। তার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। এর আগে গত ২৩ মার্চ দীপক কুমার (৫৭) নামের একজন মারা যান। তার বাড়ি শ্রীমঙ্গলে।

ইতালিতে করোনা প্রকোপ ভায়বহ রূপ নিয়েছে বেশ আগেই। তবে সেই তুলনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বা প্রবাসীদের মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

মিলানের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে- প্রতি দুই মিনিটে একজনের মৃত্যু দেখেছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ইতালি। কিন্তু এত দিনে বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিলে। যদিও ইতোমধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়াসহ বৃহত্তর লোম্বাদিয়া, ভারেজে, তরিনো, রোমসহ বিভিন্ন শহরে আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির খবর আসছে।

বিদেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতক পার হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করোনা সেল এখনও ছয় জনের মৃত্যুর কথা বলছেন।

করোনা সেলের প্রধান অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ডা. খলিলুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আইনে চিকিৎসাধীন কিংবা মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবার ছাড়া অন্যদের তথ্য শেয়ার করা নিষেধ। ফলে সেখান থেকে সরকারিভাবে তথ্য পাওয়ার সুযোগ নেই। সর্বশেষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কে একজন সাংবাদিকসহ অনেকের মৃত্যুর খবর কমিউনিটি মারফত পেয়েছি।

তিনি বলেন, এটাতো আনুষ্ঠানিক বা সরকারি তথ্য নয়। ইতালিতে দুইজন মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন লন্ডনে গিয়ে মারা যান। স্পেনে ১, কাতারে সর্বশেষ ২ জন এবং সুইডেনে ১ জন এই ৬ বাংলাদশির মৃত্যুর বিষয়টি আমরা সরকারি বা আনুষ্ঠানিকভাবে বলছি। বাকি আপনারা যা পাচ্ছেন তা অনানুষ্ঠানিক।

এদিকে কানাডা মিশন বলছে, দেশটিতে ২০ জনের মতো বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন। ফ্রান্সেও প্রায় ২০ জনের মতো আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেছে।

এছাড়া সৌদি আরবের মদিনায় মঙ্গলবার মারা যাওয়া বাংলাদেশি চিকিৎসক আশফাক হোসাইন ঝিনাইদহ ক্যাডেট ও সলিমুল্লাহ মেডিকেলে প্রাক্তন ছাত্র বলে জানা গেছে। এর আগে ২৪ মার্চ মদিনায় করোনা আক্রান্ত প্রথম বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে।