২৫ বছর যেখানে পালিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজিদ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ২৫ বছর ধরে ভারতে পালিয়ে ছিলেন তিনি।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে সেখান থেকে গত ২৬ মার্চ ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। দেশে ফেরার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতায় আবদুল মাজেদ নিজেকে আবদুল মজিদ পরিচয় নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এর আগে লিবিয়া ও পাকিস্তানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে আবদুল মাজেদ প্রথমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে সিটিটিসি’র দায়িত্বশীল সূত্র।

জানা গেছে, ভারত থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে যান লিবিয়ায়। সেখান থেকে আসেন পাকিস্তানে। লিবিয়া ও পাকিস্তানে সুবিধা করতে না পেরে আবারও ভারতে ফিরে আসেন। বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করার পর গত ৩-৪ বছর ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি।

বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগ ছিল তার। দেশে ফেরার পর মিরপুর ডিওএইচএস-এর এক নম্বর সড়কের ১০/এ বাসায় ওঠেন।  

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, আদালতে আবদুল মাজেদকে ধানমন্ডি থানার ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় (সন্দেহমূলক) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রেফারেন্সসহ গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয় এবং গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রাখার আবেদন করে পুলিশ। আবেদন মঞ্জুর করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ডের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ, নূর ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন এই তিন জনের অবস্থান ছিল। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। মাজেদ তখন লেফটেন্যান্ট ছিলেন। এই খুনি শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনেই অংশগ্রহণ করেননি, তিনি জেলহত্যায়ও অংশ নিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এরপর আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে ১৯৯৭ সালে, তার আগেই তিনি আত্মগোপন করেন। আমাদের গোয়েন্দাদের তৎপরতা ছিল তাকে ধরার জন্য। গোয়েন্দা বাহিনী এবং যারা যারা তাকে গ্রেফতারের কাজে ছিল, তারা সবাই ভালো কাজ করেছে বলে আমি মনে করি।’