জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে চারজনের মৃত্যু

জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশি নিয়ে দেশের চার জেলায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ।

পঞ্চগড়

জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী মারা গেছে। সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিল কি না, তা জানতে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কাল বুধবার তা রংপুরে পাঠানো হবে।

আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটায় ওই কিশোরী মারা যায়।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী কয়েক দিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল।

দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান বলেন, ‘জ্বর-শ্বাসকষ্টে ওই কিশোরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করেছি। কাল বুধবার সকালে ওই নমুনা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ছাড়া ওই এলাকার টাঙ্গাইল থেকে আসা এক শ্রমিককে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরও নমুনা সংগ্রহ করে একই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হবে।’

জামালপুর

জেলার মেলান্দহ উপজেলার একটি এলাকায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ওই নারীর মৃত্যু হয়। তবে করোনা সন্দেহে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

ওই নারী মেলান্দহের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ১০ দিন আগে উপজেলার অপর একটি এলাকায় তাঁর ছোট বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, দুপুরে ওই নারী মাথা ঘুরে ও বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল না বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

সুনামগঞ্জ

জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরে তরুণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই তরুণের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মারা যাওয়া ওই তরুণের বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। তিনি নরসিংদীতে একটি ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

এ বিষয় দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোনিয়া সুলতানা বলেন, তরুণের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশপাশের লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জেলার নাসিরনগরে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশি নিয়ে এক মালয়েশিয়াপ্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৭ বছর।

ওই প্রবাসীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও শ্যালিকা বাদে শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পালিয়ে গেছেন।

এই প্রবাসী উপজেলার অন্য গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তিনি গত ১৮ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন। ১ এপ্রিল তাঁর হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ৪ এপ্রিল শরীরে জ্বর নিয়ে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান মালয়েশিয়াপ্রবাসী। সে সময় আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তাঁকে রক্তের পরীক্ষা করাতে বলেন। রক্তের পরীক্ষায় প্রবাসীর শরীরে টাইফয়েডের জীবাণু ধরা পড়ে। সে সময় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ব্যক্তি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা চালাবেন বলে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, লক্ষণগুলো দেখে ওই প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ হচ্ছে। পরিবারের লোকজন অনেক কিছু লুকানোর চেষ্টা করছেন। তবে নমুনা নেওয়া হয়েছে।