বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য শুরু করলে তিনি গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি ২৩ বছর ধরে পলাতক থাকলেও গত ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সিটিটিসি। এ সময় মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত ৮ এপ্রিল মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আবদুল মাজেদ। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তারপর বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করতে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে মো. আবুল, তরিকুল ও সোহেলসহ ১০ জন জল্লাদের একটি দল তৈরি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। পরে শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মিনিটের সময় তারা ঘাতক আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করেন। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষের ডাকে আবদুল মাজেদের স্বজনরা কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। এ সময় স্বজনদের সাথে শেষ সাক্ষাৎ করেন তিনি।

ঘাতক ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের মরহুম আলী মিয়া চৌধুরীর ছেলে। তিনি ৪ কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তানের জনক।

এদিকে, নতুন স্থাপিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এটিই প্রথম ফাঁসি। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় মোট ছয় জনের ফাঁসি কার্যকর হলো। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। রায় কার্যকরের আগেই ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান আজিজ পাশা। পলাতক রয়েছেন খন্দকার আব্দুর রশিদ, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেহ উদ্দিন।