২০০ কিলোমিটার দূরে আমফান, কমেনি শক্তি

বাংলাদেশের উপকূলের দিকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান। বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের দিকে গত ৩ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি।

প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে আসা আমফান বুধবার সন্ধ্যার পর সাগর দ্বীপের (বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের দ্বীপ) পূর্বপাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, বুধবার দুপুর ১২টায় বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল এটি। এর ৩ ঘণ্টা পর বিকেল ৩টায় মোংলা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।

বিকেল ৩টার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, উপকূলের কাছাকাছি চলে আসলেও আমফানের শক্তি এখনও কমেনি। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ।

বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শেষ বিকাল/সন্ধ্যার মধ্যে সাগর দ্বীপের পূর্বপাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে তথা আঘাত হানতে পারে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।