করোনা ভয় উপেক্ষা করে ঈদ করতে বাড়ি ফেরার ঢল

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ফেরি ঘাটগুলোতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নির্বাহী আদেশে সব ধরণের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় এসব মানুষ ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার, মাইক্রো, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাড়া করে নিজ নিজ বাড়ি যাচ্ছেন।

গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় অনেকে পায়ে হেঁটে কিংবা ভ্যানে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ করতে।

প্রতিবছর ঈদের ছুটি শুরুর পর বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামলেও এবার সেটা নেই। সরকারি সিদ্ধান্তে রেল চলাচল এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অবশ্য বাস স্টেশনে তেমন ভিড় নেই। তবে অনেককেই ট্রাক ভাড়া করতে দেখা যাচ্ছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে মাত্র দু’টি ফেরি দিয়ে জরুরি যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার করা হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ওই ফেরিতেই মানুষের ঢল নেমেছে। কোনভাবেই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব।

একাধিক যাত্রী বলেন, অফিস আদালত, কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বেতনের টাকাও ঠিক মতো পাইনি, যা পেয়েছি তা দিয়ে ঢাকায় ঈদ করা সম্ভব না। তাই এই করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ সময়ে খাই বা না খাই, ঢাকায় বসে থাকার চেয়ে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করব।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুন্নাফ বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া থেকে কোন যাত্রী যাতে কোন নৌযানে পারাপার হতে না পাড়ে আমরা সর্বদা সেই চেষ্টা করছি। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ পড়ায় আমাদের লোকবল কম থাকায় যাত্রী পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার পরেও আমরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

একই অবস্থা শিমুলিয়া নৌরুটেও। সেখানেও আজ সকাল থেকে ভিড় দেখা গেছে। অনেককেই ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

বিআইডব্লিটিসি শিমুলিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক জানান, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত আকারে ছোট দু’টি ফেরি দিয়ে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি সচল থাকায় ঘরমুখী মানুষ পারাপার হচ্ছে।