পরীমণি আগে থেকেই মদ্যপ ছিল: নাসির উদ্দিন

ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৪) দুপুরে তাদের রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে নাসির উদ্দিন সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, যে ঘটনা বলা হচ্ছে সবই মিথ্যা। আমি যখন বের হয়ে যাই তখন ওরা ঢোকে। ওরা যখন ঢোকে তখন আমাদের সিকিউরিটি অফিসাররা ছিল না। তারা মদ্যপ অবস্থায় ঢোকে। তাদের সঙ্গে একজন ছেলে ছিল। তারা যখন ঢোকে সবাই দুলতেছিল। তারা মদ্যপ ছিল।  

নাসির উদ্দিন বলেন, তারা ঢুকে আমাদের বারের কাউন্টার থেকে অনেক বড় বড় দামি ড্রিঙ্ক জোর করে নেওয়ার চেষ্টা করে।

আপনার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ড্রিঙ্কসগুলো যে তারা নিতে চাইছে তারা তো নিতে পারেনি, তারা তো মেম্বার না। আমি জাস্ট তাদের বাধা দিয়েছি যে এটা নেওয়া যাবে না। নিতে হলে কোনো অ্যাকাউন্টের এগেইনস্টে নিতে হবে। এটা বিক্রিযোগ্য না, এটা সঙ্গে করে নেওয়ার জিনিস না।

নাসির উদ্দিন বলেন, এরপরই পরীমনি উত্তেজিত হয়ে যায়। ভাঙচুর করে, গালিগালাজ করতে থাকে। আমাদের স্টাফরা তাকে থামানোর চেষ্টা করে। ওই সময় আমি থামানোর চেষ্টা করি। তার সঙ্গে যে ছেলে ছিল তিনি ওই সময় এসে আমাকে চড়-থাপ্পড় দেয়। গ্লাস মারে আমার ঘাড়ে লাগে। আমাদের সিকিউরিটিরা এসে তাকে সরিয়ে নেয়। সেই সময় সে অনেক ড্রিঙ্কস করে ফেলে। আপনারা সিসি ক্যামেরায় দেখবেন সে গাড়িতে কীভাবে উঠতেছে।

পরীমণি অভিযোগ করেন, অমি নামে এক ব্যক্তি তার বেশ কয়েক বছরের পরিচিত। তার বাসার ডিজাইনার জিমির বন্ধু অমি। ওই সূত্রে তার বাসায় মাঝে মধ্যে আসেন অমি। একদিন এসে বলেন যে একটা প্রজেক্টে টাকা ইনভেস্ট করবেন। তাই আমার সঙ্গে বসতে চান। ওই প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলতেই অমি উত্তরা ক্লাবে নিয়ে যান তাকে।

পরীমনি জানান, এ সময় তার সঙ্গে মেকআপম্যান এবং ডিজাইনারও ছিলেন। সেখানে খাওয়া-দাওয়া করানো হয় সবাইকে। এরপর একে একে লোকজন চলে যান। তখন তাকে ড্রিঙ্কস করতে বাধ্য করা হয়। মেকআপম্যানকে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তাকেও নির্যাতনের চেষ্টা চালান ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন। তিনি বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। জোর করে তার মুখে মদ ঢেলে দেওয়া হয়। হঠাৎ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাকে লাথি মারেন নাসির উদ্দিন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর তারা রাতেই বনানী থানায় যান। সেখানে অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তাদের টেস্টের জন্য হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে তিনি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথেই তিনি কিছুটা সুস্থবোধ করলে বাসায় চলে আসেন। বাসায় ফেরার পর তিনি দুই দিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর তিনি বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোথাও কোনো সাড়া পাননি। পরে রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেন।