অসাংবিধানিক পথ খুঁজছে বিএনপি: হানিফ

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপি অসাংবিধানিক পথ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।


এসময় তিনি বিএনপি মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অসাংবিধানিক কথাবাতা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অসাংবিধানিক পন্থায় তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার এ স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।


শুক্রবার (২০) রাজধানীর সবুজবাগ বালুর মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৫নং ওয়াডের ইউনিট আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


১/১১ পর দেশে আর দ্বিতীয় অসাংবিধানিক সরকার আর হবে না উল্লেখ করে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ সংবিধান রচিত হয়েছে। এতো আত্মত্যাগ বাদ দিয়ে বাংলাদেশে চলার সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী এই সরকারের অধীনে নিবাচন হবে। আপনারা যদি মনে করেন আপনাদের প্রতি জনগণের আস্থা আছে তাহলে আগামী নির্বাচনে আসুন। জনগণ রায় দিলে ক্ষমতায় আসতে পারবেন।


জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে দখল করে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার চেতনা ধ্বংস করেছিলেন এমন মন্তব্য করে হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে শুধু রাষ্ট্রনায়ক নয়, স্বাধীনতার স্বপ্বকে হত্যা করা হয়েছিলো। কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমানসহ রাজাকারদের নিয়ে কেবিনেট গঠন করেছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণ, জয় বাংলা নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ নিয়ে এলেন। দালাল আইন বাতিল করে রাজাকারদের মুক্ত করে দিলেন। একাত্তরে নারী নির্যাতন ভূমিকা রাখা যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিলেন। রাজাকার গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে আনলেন।


জিয়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় দেশে বিচারহীনতার সংস্কতি চালু করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের তিন লাখ নেতাকর্মীকে জেলে পাঠিয়েছিলো। আওয়ামী লীগকে খন্ড-বিখন্ড করা হয়েছিলো। দেশে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন।


হানিফ বলেন, এমন ভয়াবহ সময়ে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বারবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাকে হুমকি দেয়া হয় দেশে আসলে বাবার মতো পরণতি ভোগ করতে হবে। ১৯৮১ সালের সম্মেলনে সভাপতি নিবাচিত হওয়ার পর তিনি সকল রক্তচক্ষু, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দেশে এসেছিলেন।


দেশে ফিরে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমি বাবা, মা, ভাই আত্মীয়স্বজন হারিয়েছি। আজ তাদের দেখছি না। আপনাদের মধ্যে তাদের দেখতে চাই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করবো এমনটি উল্লেখ করে হানিফ বলেন সেদিন যে যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন সেই যাত্রা এখনো অব্যাহত আছে।


আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, তিনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগামের মধ্য আওয়ামী লীগের কে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন। বাংলাদশের আইনের শাসন প্রতিষ্টা করতে সক্ষম হয়েছেন। শেখ হাসিনার উপর জনগণের আস্থা রয়েছে। মানুষের আস্থা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রতি থাকতে পারবে না। বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হলে তাদের দুর্নীতিবাজ দুই শীর্ষ নেতার কারণে হবে।


দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। মধ্যম আয়ের দেশের দিকে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছে। কারণ ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি-জামায়াত কল্যাণকর কিছু করতে পারেনি। মাঠে ময়দানে কাজ করতে হবে। তাদের মিথ্যাচারের জবাব দিতে হবে। সরকারের উন্নয়ন প্রচার করতে হবে।


বিএনপি-জামায়াতের প্রভু পাকিস্তানের অর্থনীতি আজ বিপর্যয়ের পথে। তাই তারা চায় বাংলাদেশও বিপর্যয়ের পথে যাক। এজন্য তারা কথায় কথায় বলে বাংলাদেশ আফগানিস্তান, শ্রীলংকা হয়ে যাবে। কারণ তারা চিন্তা চেতনায় শুধু দেশের ধ্বংস চায়।


নির্ধারিত সময়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় করতে চায়। এজন্য এখন থেকে মাঠে নেমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।


৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি তানিয়া হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফি সভাপতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।


৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আকন্দের সঞ্চালনায় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাত, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির, আসাদুজ্জামান আসাদ, সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী দিপু, সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফুজ্জামান ফরিদ ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস।