স্বাধীন সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি: জাগরণ টিভির উদ্বোধনে হানিফ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, আমরা সবসময় বলি নিরপেক্ষতার কথা, নিরপেক্ষ ভাবেই চলতে চাই, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাপারে বলি, আমি নিজেও একমত। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে একটি বিষয়ে নিরপেক্ষতা আমি সমর্থন করি না, আপোষ করি না, সেটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা।

রবিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে জাগরণ আইপি টিভির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে একটি মহল, আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বহুবার। জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই এই বিষয়গুলোকে নিরপেক্ষতার আদলে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যারা স্বাধীন রাষ্ট্রে বিশ্বাসী, স্বাধীন বাংলাদেশে বিশ্বাসী তাদের এ সকল বিষয়ে ভিন্ন চিন্তা, ভিন্ন মত থাকতে পারে না, এখানে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। যারা এর বিপক্ষে কথা বলে তারা আসলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে পারে না। যারা দুর্বল চিত্তের, সত্য স্বীকার করতে ও সত্যি কথা বলতে ভয় পায় তারা নিরপক্ষতার কথা বলে এই দুর্বলতাকে ঢাকতে চায়। আমি মনে করি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সেই সাংবাদিকের মধ্যে যদি সততা, সাহসিকতা না থাকে তবে তার কাছে থেকে জাতি কিছু আশা করতে পারে না।

প্রধান অতিথির বক্তবে হানিফ আরো বলেন, সব কিছুর উপরে রাজনীতি। জাতির সৃষ্টি থেকে শুরু করে দেশের সৃষ্টি সব কিছুর মূলেই রয়েছে রাজনীতি ও আন্দোলন। সেই আন্দোলনে দূরদর্শীতা থাকলে অনেক কিছুই সৃষ্টি হতে পারে, আবার সেটা না থাকলে অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সেই লিডারশিপের কারণেই আজকের বাংলাদেশ, আজকে আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার ভিশনারি লিডারশীপের কারণেই আজকে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অন্যতম দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে। বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গোটা পৃথিবীতে পরিচিত।

জাগরণ টিভি ও বিবার্তার ভূয়সী প্রশংসা করে হানিফ বলেন, তাদের মধ্যে যে প্রচণ্ড দেশপ্রেম আছে, স্বাধীনতার প্রশ্নে যে তাদের আপোষহীন অবস্থান, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চে শাহিনের যে অদম্য অবস্থা তা বারবার আমাকে মুগ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে মৌলবাদীরা যে উদ্ধত কথা বলেছে সেটা নিয়ে তাদের ভেতরের রক্তক্ষরণ, সেটার প্রতিবাদে ধোলাইপারে বিশাল প্রতিবাদ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। দলের কোনো পদ পদবীতে না থেকেও শাহীন-হাসি যে সাহসিকতা দেখিয়েছে , অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সামনে রেখে তাদের কাজ সত্যি প্রশংসার দাবিদার। সম্প্রতি দেশে হেফাজতের তাণ্ডবের প্রতিবাদে তারা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, আমার মনে হয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এর চেয়ে শক্ত অবস্থান আর হয় না।

দিনব্যাপী জমকালো অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জুনাইদ আহমেদ পলক– তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস-এমপি নাটোর-৪, সভাপতি, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ, ডক্টর মোহাম্মদ সামাদ, উপ-উপচার্য (প্রশাসন), ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল – আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ডক্টর এমরান কবির চৌধুরী-কুমিল্লার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য, জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ-উপচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, সাবেক সাংসদ, মারুফা আক্তার পপি, সদস্য আওয়ামী লীগ, গোলাম কুদ্দুছ, সভাপতি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মোল্লা নজরুল ইসলাম, ডিআইজি, নৌ পুলিশ, মনিরুল ইসলাম, ডিআইজি, সৈয়দ ইসতিয়াক রেজা, প্রধান সম্পাদক, জিটিভি, প্রণব সাহা, সম্পাদক, ডিভিসি নিউজ বাংলা, ইলিয়াস শরীফ, যুগ্ম কমিশনার এন্টি টেরোরিজম ইউনিট, আঙ্গুর নাহার মন্টি, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক, নিউজ২৪টিভি, নাসির উদ্দিন মিতুল, ডিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুহুলি কুদ্দুস মুক্তি, সহ-সভাপতি, যুবলীগ, মাজেদুল বারি নয়ন, মেয়র, বড়াইগ্রাম পৌরসভা, গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট, মেয়র রায়পুর পৌরসভা, মাজেদ মিন্টু, উপসচিব, দুদক, এস এম মনিরুল ইসলাম মনি, সভাপতি গৌরব ৭১, গুলশাহানা ঊর্মি, প্রেস উইং, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রমুখ।