ফ্রিফায়ার-পাবজি-টিকটক বন্ধের পদক্ষেপ চেয়ে আবারও রিট

দেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার ও লাইকির মতো সব ধরনের অনলাইন গেম ও অ্যাপ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ’ ফাউন্ডেশনের পক্ষে গেম এবং অ্যাপগুলোর ক্ষতিকারক দিক তুলে জনস্বার্থে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাউছার।

রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশের আইজিকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ জুন অনলাইন প্লাটফর্মকে  ক্ষতিকর দাবি করে এ জাতীয় অ্যাপস বন্ধে সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে সেই নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করলেন দুই আইনজীবী।

ওই আইনি নোটিশে বলা হয়েছিল— টিকটক, বিগো লাইভ ও লাইকি অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের শিশু-কিশোর এবং যুব সমাজ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এবং সারাদেশে কিশোর গ্যাং কালচার তৈরি হচ্ছে। টিকটক অনুসারীরা বিভিন্ন গোপনীয় জায়গায় পুল পার্টির নামে অনৈতিক বিনোদন ও যৌন কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে। এছাড়াও সম্প্রতি নারীপাচার ও অর্থপাচারের ঘটনাও টিকটক, লাইকি এবং বিগো লাইভের মাধ্যমে চলছে। যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং দেশের ও জনস্বার্থের পরিপন্থী, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। অপরদিকে, পাবজি ও ফ্রি ফায়ারের মতো গেমগুলোতে বাংলাদেশের যুব সমাজ এবং শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে পড়ছে মেধাহীন। এসব গেম যেন যুব সমাজকে সহিংসতা প্রশিক্ষণের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও একই নির্দেশরা চেয়ে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন। সেই রিট আবেদনটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় অপেক্ষমান রয়েছে।