'কোচ লিফটেও আমাকে যৌন হেনস্তা করে'

ভারতের রিষড়ার সাঁতারুর শ্লীলতাহানি কাণ্ডে উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বয়ানে নির্যাতিতা জানিয়েছে ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে প্রতিনিয়ত অভিযুক্ত গোয়ার প্রাক্তন বরখাস্ত হওয়া সাঁতার কোচ সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে শ্লীলতাহানি করেছে।

অভিযুক্ত সুরজিৎ তাঁর জামিন আবেদনে গোয়ার শিশু আদালতে জানিয়েছে, তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে।

যদিও তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। সেই জামিন আবেদনের ভিত্তিতেই নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করতে পশ্চিমবঙ্গের হুগলির রিষড়ার বাড়িতে আসে গোয়া পুলিশ ও ভিএইউ এর একটি দল। তাতেই এই বয়ান দিয়েছেন নির্যাতিতা সাঁতারু।

নির্যাতিতা নিজের বয়ানে জানিয়ছে, ১৪ মার্চ যখন সে প্রথম গোয়া যায়, সেই দিন অভিযুক্ত সুরজিৎ তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিজের বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সে তাঁকে বাইকে করে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর চারতলায় অভিযুক্তের ফ্ল্যাটে লিফটে করে যাওয়ার সময়ে সুরজিৎ নিজের জামা তুলে অশ্লীল আচরণ করে। নির্যাতিতা জিনিয়েছে, সুরজিৎ তাঁর ডানদিকের গালে চুম্বন করে।

নৈশভোজের পর সুরজিৎ নির্যাতিতাকে বাইকে করে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে। সেই সময় সে তাতে রাজি না হলেও পরিবারের চাপে নির্যাতিতা যায় এবং তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা হেঁটে বাড়ি ফেরেন। সেই সময়েই ঘরে তার শ্লীলতাহানী করে সুরজিৎ বলে নির্যাতিতার দাবি। এরপর সে প্রবল মানসিক চাপে ভুগতে থাকে বলে জানিয়েছেন পুলিশকে। এর কিছুদিন পর ফেরে সে যখন সুরজিৎ-এর বাড়িতে একা দুপুরের খাবার খেতে যায়, তখন সে নির্যাতিতাকে জড়িয়ে ধরে। কিন্তু নির্যাতিতার দাবি সে তখন সুরজিৎকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

এরপরই গত ২৮ আগস্ট পায়ে আঘাত নিয়ে ঘরেই ছিল নির্যাতিতা। সেই সময় অভিযুক্ত কোচ তাঁর বাড়ি আসে মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে। এরপর সুরজিৎ যখন তার ঘরে আসে, তখন নির্যাতিতার দাবি সে সন্দেহ করে ফের সুরজিৎ তাঁর সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করতে পারে। তাই সে তাঁর বাবা ফোনের ক্যামেরা অন করে রেখে দেয়। এবং তখনই সম্পূর্ণ ঘটনা ধরা করে ক্যামেরায়, বলে দাবি নির্যাতিতার।