২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলো চট্টগ্রাম আবাহনীর

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের সেমি-ফাইনালে মত ফাইনালেও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্পের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি চট্টগ্রাম আবাহনী। শিরোপার লড়াইয়ে নেমে প্রথমার্ধে দুই গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত টেরেঙ্গানু এফসির কাছে ২-১ গোলে হেরে নিজেদের টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো স্বাগতিকদের।

চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসরের ফাইনালে ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নদের ২-১ গোলে হারায় টেরেঙ্গানু। দেশের বাইরে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে এসেই বাজিমাত করল মালয়েশিয়ার দলটি।

ফাইনালের শুরুতে কিন্তু ছিল অন্য কিছুর ছাপ। চট্টগ্রাম আবাহনী একাধিক আক্রমণ গড়েও গোল পায়নি। দ্বিতীয় মিনিটেই চার্লস দিদিয়েরের ক্রসে মন্টিনেগ্রোর লুকা রোতকোভিচ গোলমুখে হেড নিতে পারেননি। মিনিট সাতেক পর জামাল ভূঁইয়ার জোরালো শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের হাতে। ১৩ মিনিটে বক্সে ঢুকেও হতাশ হতে হয় স্বাগতিকদের।

চট্টগ্রাম আবাহনীর হতাশার মধ্যেই এগিয়ে যায় তেরেঙ্গানু। ১৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার ক্লাবটিকে এগিয়ে নেন হাকিম বিন মামাত। লি টাকের কর্নারে তার হেডে স্তব্ধতা নেমে আসে গ্যালারিতে। ওই জায়গা থেকে চট্টগ্রাম আবাহনী ঘুরে দাঁড়াবে কী, উল্টো মিনিট পাঁচেক পর খায় আরও ধাক্কা! ২০ মিনিটে তেরেঙ্গানু ব্যবধান দ্বিগুণ করে আজানিলুল্লাহ আলিয়াস বিন মোহাম্মদের লক্ষ্যভেদে।

গোলটা ছিল দেখার মতো। একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে চট্টগ্রাম আবাহনীর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে মোহাম্মদ নেহালকে ফাঁকি দিয়ে শিরোপা জেতার পথ তৈরি করেন আলিয়াস।

খেলায় ফিরতে মরিয়া স্বাগতিকরা চেষ্টা চালিয়েও প্রথমার্ধে সফল হয়নি। তবে বিরতি থেকে ঘুরে এসেই খেলায় ফেরার ইঙ্গিত দেয় চট্টগ্রাম আবাহনী। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রোতকোভিচ জাল খুঁজে পেলে এক গোল শোধ দেয় তারা। চিনেদু ম্যাথিউর কাটব্যাক থেকে প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

এরপর আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল হয়েছে। চেষ্টার কমতি রাখেনি চট্টগ্রাম আবাহনী। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ায় সমতায় আর ফেরা হয়নি তাদের। ৫৫ মিনিটে ব্রুনো সুজোকির শট ক্রস বারের ওপর দিয়ে যাওয়া, ৬১ মিনিটে আরিফুরের পাসে রোতকোভিচ দুর্বল শট গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়া কিংবা ৭০ মিনিটে আরিফুরের কাটব্যাকে রোতকোভিচের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যাওয়া শুধু হতাশাই বাড়িয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীর।

তাতে ২-১ গোলের স্কোরলাইন ধরে রেখে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতেছে তেরেঙ্গানু। বিপরীতে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল হয়েছে চট্টগ্রামের আবাহনীর খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ভক্ত-সমর্থকরা।