রাজকোটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

ব্যাটিং ব্যর্থতার পর চূড়ান্ত ব্যর্থ বোলাররাও। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে রোহিত শর্মার চড়া ব্যাটে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়কের ৪৩ বলে ৮৫ রানে ভর করে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে ভারত।

রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ১৫৪ রানের লক্ষ্য ২৬ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। আগামী রবিবার নাগপুরে হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টি।

আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরুর পরও ৬ উইকেটে মাত্র ১৫৩ রান তুলে বাংলাদেশ। ১৫.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই সে রান চেজ করে ভারত।

বাংলাদেশের শুরুর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল রান ২০০ না হলেও ১৯০ হবে। কারণ প্রথম ৬ ওভারেই নাইম শেখ আর লিটন দাস তুলেন ৫৪ রান।

এরপরই হঠাৎ ছন্দপতন। অষ্টম ওভারে হাস্যকর ভাবে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। যদিও এর আগে তিনি দুইটি জীবন পেয়েছিলেন। তবে এরপরও নিজের ইনিংসকে বড় করতে পারেননি।

তিনি সাজঘরে ফেরেন ২১ বলে ২৯ রান করে। তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬৩। এরপর সৌম্যকে নিয়ে জুটি গড়েন নাইম। তবে সে জুটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১১তম ওভারের তৃতীয় বলে শ্রেয়াশ আইয়ারকে ক্যাচ দেন নাইম। সুন্দরের শিকার হওয়ার আগে ৩১ বলে করেন ৩৬ রান।

বাকি সময়টা শুধু হতাশাতেই কেটেছে বাংলাদেশের। সৌম্য সরকার ও রিয়াদ ব্যাট চালালেও বাকিরা খেলেছেন টেস্ট মেজাজে। মুশফিকুর রহিম ৬ বলে করেছেন ৪ রান। তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১২ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৭।

এর কিছুক্ষণ পরই ফিরেছেন ২০ বলে ৩০ রান করা সৌম্য সরকার। আফিফ হাসান ৮ বলে করেছেন ৬ রান, মোসাদ্দেক হোসেন ৯ বলে ৭ রান ও বিপ্লব ৫ বলে ৫ রান। শেষদিকে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ ২১ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ করেছে ৬ উইকেটে ১৫৩ রান।

অথচ খুব সহজেই হতে পারতো ১৮০ থেকে ১৯০ রান। মূলত ব্যাটসম্যানদের স্লো ব্যাটিং আর স্ট্রাইক রোটেট না করতে পারাই ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। ফলে ১৫৩ রানেই থামতে হয় বাংলাদেশকে।

৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট নেন যুবেন্দর চাহাল।

শিশিরভেজা মাঠে টি-২০ ক্রিকেটে ১৫৩ রান বড় টার্গেট নয়। সেটা আরও সহজ করে দিলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। মোসাদ্দেকের একটা ওভারেই ছক্কার হ্যাটট্রিক করলেন হিটম্যান। ১৯৭ স্ট্রাইক রেট রেখে ৪৩ বলে রোহিত ফিরলেন ৮৫ রানে। যা ফর্মে ছিলেন টিটোয়েন্টি আর একটা শতরান হয়ে যেত। অন্যদিকে তাঁকে সঙ্গ দিয়ে গিয়েছেন শিখর ধবন। ২৭ বলে তাঁর রান ৩১। রোহিত ওমন ব্যাটিংয়ের পর আর কারও কিছু করার থাকে না। হলও তাই। শ্রেয়স আইয়ার ও কেএল রাহুল ধীরেসুস্থে ম্যাচ বের করে দিলেন। ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতল ভারত। তখন বেঁচে ২৬টি বল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩/৬ (লিটন ২৯, নাঈম ৩৬, সৌম্য ৩০, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩০, আফিফ ৬, মোসাদ্দেক ৭*, আমিনুল ৫*; চাহার ৪-০-২৫-১, খলিল ৪-০-৪৪-১, সুন্দর ৪-০-২৫-১, চেহেল ৪-০-২৮-২, দুবে ২-০-১২-০, ক্রুনাল ২-০-১৭-০)

ভারত: ১৫.৪ ওভারে ১৫৪/২ ( রোহিত ৮৫, ধাওয়ান ৩১, রাহুল ৮*, শ্রেয়াস ২৪*; মুস্তাফিজ ৩.৪-০-৩৫-০, শফিউল ২-০-২৩-০, আল আমিন ৪-০-৩২-০, আমিনুল ৪-০-২৯-২, আফিফ ১-০-১৩-০, মোসাদ্দেক ১-০-২১-০)।

ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: রোহিত শর্মা