৩ মিনিটের ঝড়ে রিয়ালকে জিততে দিল না পিএসজি

করিম বেনজেমার দ্বিতীয় গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ততোক্ষণ পর্যন্ত রিয়ালের সঙ্গে ব্যবধানটা কেবল দুই গোলের ছিল সেটাই নিজেদের সৌভাগ্য ভাবতে পারত পিএসজি।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পিএসজিকে প্যারিসে প্রথম লেগে হারের জবাবটা ভালোভাবেই দিয়ে যাচ্ছিল রিয়াল। আর পিএসজি ছিল কোনঠাসা। এর পর তিন মিনিটের এক ঝড়ে সব পালটে দিয়েছে পিএসজি। থিবো কোর্তোয়ার এক ভুলে ৮১ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে বসেন। এর দুই মিনিট পর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়  পাবলো সারাভিয়া আরও একবার গোল করে সেই ম্যাচের স্কোরলাইনই বানিয়ে ফেলেন ২-২।

ঘটনাবহুল ম্যাচটা অবশ্য শেষে আবারও পিএসজির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারত রিয়াল। বদলি হয়ে দুয়ো শুনতে শুনতে মাঠে নেমেছিলেন গ্যারেথ বেল। সবকিছুর জবাব একবারে দিয়ে দেওয়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও ফিরতে হয়েছে তাকে। যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার ফ্রি-কিক গিয়ে লেগেছে বারপোস্টে। 

রিয়ালের ওই দুইটি আক্রমণও ছিল মার্সেলোর ক্রস থেকে। ৭৯ মিনিটে মার্সেলোর তৃতীয় ক্রসটা আর বৃথা যেতে দেননি বেনজেমা। গোলের সামনে থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করে পিএসজিকে আরও দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি।

দারুণ ছন্দে থেকেও এর পরই তালগোল পাকিয়ে ফেলে রিয়াল। পুরো ম্যাচে রক্ষণের দিক দিয়ে তেমন একটা ভুল করেনি তারা। থিবো কোর্তোয়া তখনও মাঠে ছিলেন ভিএআরের কল্যাণে। তিনিই করলেন ভুলটা। ডান দিক থেকে আসা ক্রস ধরতে ভুল করলেন, রাফায়েল ভারানের সঙ্গেও সমন্বয় হলো না ঠিকঠাক। এমবাপ্পে ৮১ মিনিটে ফাঁকা বারে বলটা পুরেছেন শুধু। আর দুই মিনিট পর বদলি নামা নেইমার বড় অবদান রেখেছেন পিএসজির ফেরায়। আরেক বদলি সারাভিয়াই অবশ্য করেছেন আসল কাজটা। বক্সের ঠিক ভেতর থেকে বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে বাম দিক থেকে আসা ক্রস গোলে পরিণত করে পিএসজির প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেছেন তিনি।

ম্যাচের বাকি সময়েও অবশ্য খেলার রঙ বদলাতে পারত আরও একবার। রদ্রিগো, ভারান দুইটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। এমবাপ্পেও অন্যপ্রান্তে একটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ক্রস না করে নিজেই গোলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন। আর শেষে তো বেল গোলটি পেয়ে গেলে জয় আর হাতছাড়া হত না রিয়ালের।