অলরাউন্ডার সাকিবের বাজিমাত, গায়ানার হ্যাটট্রিক জয়

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে প্রথম দুই ম্যাচে বোলিংটা মোটামুটি হলেও সাকিব আল হাসানের ব্যাটিংটা ছিল হতাশার নামান্তর। দুই ম্যাচেই সাজঘরে ফিরে যান একদম প্রথম বলে। তৃতীয় ম্যাচে এসে সাকিব ফিরে পেলেন নিজেকে। শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সমান অবদান রেখে দলকে এনে দিলেন দারুণ এক জয়।


রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময়ে ভোরে শুরু হওয়া ম্যাচটিতে প্রথম ব্যাট হাতে করেন ২৫ বলে ৩৫ রান, বোলিংয়ে চার ওভারে মাত্র ২০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে সরাসরি থ্রোয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে একটি রানআউটও করেছেন সাকিব।

সাকিবময় ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে ৩৭ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। প্রথম ছয় ম্যাচে মাত্র এক জয় পাওয়া গায়ানা, সাকিব আল হাসান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ যোগ দেওয়ার পর তিন ম্যাচের সবকয়টিই জিতে নিলো।

আজকের হ্যাটট্রিক জয়ের সুবাদে নয় ম্যাচে ৪ জয় ও পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে পাওয়া এক পয়েন্টের সুবাদে মোট ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে গায়ানা। একইসঙ্গে প্লে-অফের টিকিটও নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। বিদায় নিয়েছে ত্রিনবাগো।

নিজেদের ঘরের মাঠ প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান করেছে গায়ানা। জবাবে ইনিংসের শেষ ওভারে অলআউট হওয়া ত্রিনবাগো করতে পেরেছে ১৩৬ রান। দশ ম্যাচে তিন জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আসর শেষ করলো ত্রিনবাগো।

গায়ানার পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রানের ইনিংস খেলেছেন গুরবাজ। তার ৪২ বলের ইনিংসে ছিল না কোনো চারের মার, ছয়টি ছক্কা হাঁকান তিনি। চার নম্বরে নামা সাকিব চারটি চার ও এক ছয়ের মারে করেন ৩৫ রান। সুনিল নারিনের বলে স্ট্যাম্পিং হওয়ার আগে তাকেই একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। এছাড়া সামিত প্যাটেলের এক ওভারেই মারেন তিন বাউন্ডারি।

পরে বোলিংয়ে নেমে নিজের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ফিরিয়ে দেন টিম সেইফার্টকে। প্রথম স্পেলে দুই ওভারে ৮ রানে নেন ঐ এক উইকেট। ইনিংসের ১৭তম ওভারে ফের আক্রমণে এসে আরও দুই উইকেট নেন তিনি। এবার ফেরান আন্দ্রে রাসেল ও সুনিল নারিনের মতো মারকুটে ব্যাটারদের।

সাকিবের ঝুলিতে উইকেট বাড়তে পারতো আরও। তার করা দ্বিতীয় ওভারে মিড উইকেটে একটি সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন গায়ানার ফিল্ডার। ফলে তিন উইকেট নিয়েও সন্তুষ্ট থাকতে হয় সাকিবকে। এর পাশাপাশি ইনিংসের ১১তম ওভারে শর্ট মিড থেকে সরাসরি থ্রোয়ে নিকোলাস পুরানকে রানআউট করেন সাকিব।

এছাড়া বল হাতে দুইটি করে উইকেট নেন ইমরান তাহির ও জুনিয়র সিনক্লেয়ার। গুদাকেশ মোতি ও ওডিন স্মিথের শিকার একটি করে উইকেট।