নিরাপত্তার দাবিতে পুলিশ রাস্তায়!

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে পুলিশ। অথচ সেই পুলিশই কিনা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় নেমেছে। ঘটনা ভারতের রাজধানী দিল্লির।

আইনজীবীদের কাছে পরপর দু’দিন মার খাওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ডিউটি বাদ দিয়ে ধর্নায় নামে শত শত পুলিশ সদস্য।

দিনভর ঘেরাওয়ের শেষে সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া গেটে মোমবাতি মিছিল করেন পুলিশ কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে সাড়ে সাতটা নাগাদ ধর্না ওঠে।

দিল্লি পুলিশের ওই বিদ্রোহ আদতে কেন্দ্রের প্রতি পুলিশ বাহিনীর অনাস্থা বলে আক্রমণ শানিয়েছে আপ ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। এরই মধ্যে কর্নাটক ও কেরলের আইপিএস সংগঠন, হরিয়ানা পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন-সহ একাধিক রাজ্য থেকে সমর্থন আসায় কেন্দ্রের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। ‘হ্যাশট্যাগ তিসহাজারি’ লিখে পশ্চিমবঙ্গের আইপিএস-রাও তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন। পাশে দাঁড়াতে পথে নেমেছিলেন দিল্লি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীরাও।

জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে তিসহাজারি আদালত চত্বরে গাড়ি পার্ক করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা বাধে আইনজীবীদের। যা গড়ায় হাতাহাতিতে। চলে গুলি। অভিযোগ, ওই ঘটনায় একতরফা শাস্তি দেওয়া হয় পুলিশকর্মীদের। ছাড় পেয়ে যান আইনজীবীরা। গত কাল সাকেত আদালতের সামনে ফের এক কনস্টেবলকে মারধর করেন আইনজীবীরা। এরপরই সিদ্ধান্ত হয় বিদ্রোহের।

শীর্ষ পুলিশ কর্তারা সব জেনেও নীরব থাকায় আজ সকাল ১০টা থেকে পুলিশের সদর দফতরের সামনে সাদা পোশাকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কনস্টেবলরা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই আইটিওতে পৌঁছতে থাকেন দলে দলে পুলিশ। বেলা ১২টা-সাড়ে ১২টার মধ্যে আইটিও জনসমুদ্রের আকার নেয়।

জয়েন্ট সিপি থেকে পুলিশ কমিশনার— বিক্ষোভ তুলতে পথে নামেন পদস্থ কর্তারা। সব প্রচেষ্টাই বিফলে যায়। উল্টে পট্টনায়কের সামনেই তাঁর পরিবর্তে প্রাক্তন আইপিএস কিরণ বেদীর মতো দৃঢ়চেতা কাউকে কমিশনারের পদে বসানোর দাবি ওঠে।

এদিকে, দিল্লির জেলা আদালতের আইনজীবীরা আজ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন, এ কথাও বলে রেখেছেন তাঁরা।