ইরানের বিক্ষোভে নিহত ১০৬, অ্যামনেস্টির দাবি

জ্বালানি তেলের মূল্য ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সিরজান শহরে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। যাতে অংশ নিচ্ছেন হাজার হাজার লোক।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’ জানায়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে এরই মধ্যে একটি বিবৃতি দিয়েছে। 

যেখানে তাদের দাবি, দ্রুত বাড়তে থাকা এই আন্দোলন প্রতিহতে প্রশাসনকে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা গেছে। চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৬ জনের প্রাণহানি ও আরও অনেক লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

যদিও এমন প্রেক্ষাপটে গোটা দেশের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে রুহানি সরকার। তীব্র বিক্ষোভের মুখে রবিবার (১৭ নভেম্বর) থেকে প্রায় সবধরনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্লক রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। খবর ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের’।

কর্তৃপক্ষের বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’ জানায়, শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাজপথে নেমে রাতভর তীব্র বিক্ষোভ করে সাধারণ মানুষ। গত এক সপ্তাহে দেশটির ২১টি শহরে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারের শিকার লোকের সংখ্যাও হাজার ছাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে। যে কারণে চলমান সংকট কাটাতেই সরকারি রেশন কাটছাঁটের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। আর এ ঘোষণার রাতেই রক্তাক্ত হয় সিরজানের রাজপথ।