ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ যে কোনো সময়

সিরীয় ভূখণ্ডে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানি ও ইরান সমর্থিত ১৬ যোদ্ধা, সিরীয় সেনা আর বেসামরিক নাগরিকসহ এসব হামলায় প্রাণ গেছে অন্তত ২৩ জনের। আহত আরও অনেকে।

আর এতেই তৈরি হয়েছে যুদ্ধাবস্থা। প্রতিশোধ নিতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করে ইরানি বাহিনী। এর প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক অস্থিরতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার দামেস্কের কাছেই ইরান ও সিরিয়ার সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করলেও বেসামরিক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতিও হয় ব্যাপক।

তেলআবিবের দাবি, সিরিয়া থেকে একদিন আগের রকেট হামলার জবাবে এ অভিযান। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের অভিজাত কুদস ফোর্স, জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বিমান হামলার পাশাপাশি সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “তেহরান, দামেস্ক, বৈরুত, গাজা… আমাদের সব শত্রুদের প্রতি একটিই বার্তা। ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রশ্নে পুরো জাতি এক। কাজেই আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়ার বোকামি কেউ করবেন না।”

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবও।

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল-আজিজ বলেন, “২৮৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আর ২৮৯টি ড্রোন হামলা হয়েছে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে। তেল কারখানায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত- ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার কতো বিশাল। কিন্তু সৌদি আরবের কোনো ক্ষতি করতে আজ পর্যন্ত দেশটি সক্ষম হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না।”

এদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। হামলার জবাব দিতে ইরানি বাহিনী প্রস্তুত বলেও তারা জানিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা চুপ ইরানের মিত্র তুরস্ক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি প্রত্যাঘাত করে তাহলে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। কারণ ইসরায়েল ইতোমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন রেখেছে। তারা যুদ্ধের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এই অবস্থায় ইরানের পাল্টা হামলা আত্মঘাতী হতে পারে।