স্তব্ধ কাশ্মীর, ঘর থেকেও বের হচ্ছে না মানুষ

টানা তিনদিন কেটে গিয়েছে। কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও তালাবন্ধ। দোকানপাট তো দূরের কথা ঘর থেকে বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে সাধারণ মানুষ। এতে কাশ্মীরে আতঙ্ক যে এখনও কাটেনি, ফের তারই রেশ মিলল।

বুধবার রাতে শ্রীনগরে চারটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় একদল দুষ্কৃতী। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি ঠেলাগাড়ি ও একটি ক্যাব। হুমকি দেওয়া হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে পোস্টারও। তাতে বলা হয়েছে দোকানপাট না খুলতে।

যারা এই কাজ করছে, তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে শ্রীনগরের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদ ইকবাল চৌধরি। স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন, কোনও ঘটনা ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে তা থানায় জানাতে। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তবে তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। স্তব্ধই রয়েছে জনজীবন।

পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিসংযোগের প্রত্যেকটি ঘটনার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। যারা এই ঘটনায় যুক্ত, তাদের খুব শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে। যারা কাশ্মীরকে বন্ধ রাখতে চায়, তাদের হতাশার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে জানায় পুলিশ।

কাশ্মীরের দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিনতাবাদীদের টার্গেটে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সম্প্রতি তাদের টার্গেট পাল্টেছে। এখন তাদের টার্গেটে ভীন রাজ্যের মানুষ। গত ১৫ দিনে অন্তত ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যারা ভারতের অন্যসব রাজ্য থেকে কাশ্মীরে এসেছে। এতে পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

এছাড়াও কাশ্মীরকে স্বাভাবিক দেখাতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি দলকে কাশ্মীর নিয়ে আসা হয়। তবে তাতে ঘটেছে ঠিক উল্টো। কাশ্মীরে গিয়েই বিক্ষোভের মুখে পড়েন ইউ প্রতিনিধিরা। ফলে বাতিল হয় তাদের সফর।

অন্যদিকে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করায় ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে আমেরিকা। এছাড়াও প্রতিদিনই ঘটছে বোমা হামলার ঘটনা। তাতে করে সাধারণ মানুষ ঘর থেকেই বের হচ্ছে না।

কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বারতের অর্থনীতিতেও। প্রতিবছর কাশ্মীর থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় হতো ভারত সরকারের। তবে এবার সে আয়ের খাতা শূন্য। উল্টো তাদের খরচ গুনতে হচ্ছে। তাছাড়া কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে ভারত থেকে।