হিন্দুদের জন্য আলাদা দেশ গড়েছেন ধর্ষকগুরু নিত্যানন্দ

ধর্ষণের একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু স্বামী নিত্যানন্দর খোঁজ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের অভিযোগ উঠার পর তিনি কোথায় তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি আস্ত একটা দ্বীপই কিনে নিয়েছেন। ওইখানেই নিজের দেশ গড়ে তুলেছেন স্বামী নিত্যানন্দ।

রিপাবলিক টিভির প্রকাশিত একটি খবরে অনুযায়ী ইকুয়েডরের একটি ব্যক্তিগত দ্বীপ কিনে নিয়ে সেই দ্বীপটিকেই নতুন একটি দেশ ঘোষণা করেছেন এই স্বঘোষিত গডম্যান। এই নতুন দেশের নাম ‘কৈলাস’। এই নতুন দেশের জন্য ইতিমধ্যেই নতুন পতাকা, পাসপোর্ট এবং প্রতীক ও বানিয়ে ফেলেছেন ধর্ষণে অভিযুক্ত এই ধর্মগুরু।

এই দ্বীপটি মূলত ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর কাছে অবস্থিত। হিন্দু সার্বভৌম এই দেশে অর্থদান করলেই মিলবে নাগরিকত্বের সুযোগ।

এই নয়া দ্বীপ নিয়ে রয়েছে একটা ওয়েবসাইটও। এই ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে, কৈলাস একটি অরাজনৈতিক দেশ। এই দেশের মূল উদ্দেশ্য প্রতিটি মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করা। এই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে প্রয়োজন প্রকৃত হিন্দু ধর্মের অভ্যাস।

এই ওয়েবসাইটের মতে ‘কৈলাস’ কোনও সীমানা ছাড়া একটি দেশ। এইখানে সারা বিশ্বের হিন্দুরা আসতে পারেন যারা হিন্দু ধর্ম পালন করার অধিকার হারিয়েছেন। এই দেশে মোট ১০টি দফতর রয়েছে। একটি দফতর সম্পূর্ণ স্বামী নিত্যানন্দ পরমাশিবমের উপর নিবেদিত। অন্য একটি অফিস রয়েছে ওই দেশের সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের অফিস।

ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের কাছে ‘কৈলাস’কে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে ওই দেশের আইন মন্ত্রক। ওই আর্জিতে নিজেকে অসহায় বলে হিন্দুধর্ম পালন এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যেই তাঁকে ভারত ছাড়তে হয়েছে বলে ওই আর্জিতে লিখেছেন তিনি।

গত বছর থেকেই একের পর এক ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন এই ধর্মগুরু। আপাতত জামিনে মুক্ত নিত্যানন্দ হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যান। গত এক বছরে প্রায় ৪৩টি কোর্টের হাজিরার নোটিস উপেক্ষা করেছেন নিত্যানন্দ। আর এই নতুন ছবি সামনে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রবল জল্পনা।