`এটা কোনও যৌন সুড়সুড়ির গল্প নয়’

যৌন কেলেঙ্কারিতে এবার উঠে এসেছে রাণী এলিজাবেথের দ্বিতীয় ছেলে ডিউক অব ইয়র্কের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম। তার বিরুদ্ধে জোর করে যৌনতার অভিযোগ এনেছেন এক মার্কিন নারী।

ভার্জিনিয়া জফ্রেই নামের ওই নারী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, আত্মহত্যাকারী মার্কিন বিনিয়োগকারী জেফরি এপস্টেইন তাকে পাচার করে নিয়ে গিয়ে তার বন্ধুদের সঙ্গে দৈহিক মিলনে বাধ্য করেছিলেন, ওই বন্ধুদের মধ্যে ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুও ছিলেন। ওই সময় তার বয়স ১৭ বছর ছিল।

ভার্জিনিয়ার দাবি, রাজকুমার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে নাচার জন্য বলা হয়েছিল তাঁকে। এ জন্য মেফেয়ারের ‘ট্র্যাম্প’ নাইটক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ভার্জিনিয়াকে। তিনি জানিয়েছেন, অ্যান্ড্রু নাচতে পারেন না। উপরন্তু ঘেমেনেয়ে তাঁর গায়ে শুধু পড়ে যাচ্ছিলেন রাজকুমার। গোটা ব্যাপারটাই খুব অস্বস্তিকর ছিল ভার্জিনিয়ার কাছে।
রাজকুমারের মনোরঞ্জন করার জন্য তাঁকে কী করতে হয়েছিল, তার বর্ণনাও দিয়েছেন ভার্জিনিয়া। সে দিন নাইটক্লাব থেকে ফেরার পথে তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘‘জেফ্রির জন্য যা করেছো, এ বার অ্যান্ড্রুর জন্যও সেটাই করতে হবে।’’

ভার্জিনিয়া বলেছেন,অ্যান্ড্রু খুব নিষ্ঠুর ছিলেন না। সব কিছু হয়ে যাওয়ার পরে আমায় ধন্যবাদ দিয়ে চলে যান। কিন্তু সেই সময়ে তার মনের অবস্থা খুবই ভয়ঙ্কর ছিল। বিছানায় বসে ছিলাম। লজ্জায় ঘেন্নায় মরে যাব মনে হচ্ছিল। ওই দিনের পরে ডিউকের সঙ্গে তাঁর তিন বার যৌন সম্পর্ক হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভার্জিনিয়া। এক বার লন্ডনে, এক বার নিউ ইয়র্কে এবং আরও এক বার ক্যারিবীয় দ্বীপে এপস্টিনের আর এক বাড়িতে।

ব্রিটেনের জনতার উদ্দেশে ভার্জিনিয়া অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, আমার পাশে দাঁড়ান। এটা কোনও যৌন সুড়সুড়ির গল্প নয়। এটা নিগ্রহের খতিয়ান। রাজপরিবারের সদস্যের কাহিনি।

নাইটক্লাবে সে দিন অ্যান্ড্রু তাঁর কাঁধে হাত দিয়ে ছবি তুলেছিলেন। সে ছবি প্রথম একটি ট্যাবলয়েডে প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। তার জন্য ১ লক্ষ ৬০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন ভার্জিনিয়া।