জয় আমাদেরই হবে: ট্রাম্প

প্রায় চার মাসের তদন্ত ও তিন সপ্তাহব্যাপী উন্মুক্ত শুনানি শেষে মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটি গত মঙ্গলবার একটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনের মোদ্দাকথা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ব্যাপারে ক্ষতিকর তথ্য আহরণের লক্ষ্যে তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ দিয়েছিলেন। এই লক্ষ্যে তিনি ইউক্রেনের জন্য কংগ্রেস কর্তৃক নির্ধারিত প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য প্রদানের ব্যাপারে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেন।

প্রতিবেদনটি কংগ্রেসের বিচার বিভাগীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই কমিটির দায়িত্ব, কোন কারণে ও কী তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে, তার প্রস্তাব নির্ধারণ করা। এ কাজের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগীয় কমিটি বুধবার থেকে এক উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করেছে।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি মার্কিন কংগ্রেসে বলেছেন, ইউক্রেন কেলেঙ্কারিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি নথিভুক্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হোক। তথ্যগুলি চ্যালেঞ্জ করার কোনও জায়গাই নেই। স্বার্থসিদ্ধির জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন প্রেসিডেন্ট। নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে তদন্ত করানোর জন্য ইউক্রেনকে অনৈতিক চাপ দিয়েছেন।

সব দেখেশুনে চুপ বসে নেই রিপাবলিকানরাও। নয়া আক্রমণ শানিয়ে তাঁরা বোঝাতে চাইছেন, প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার জন্য ডেমোক্র্যাটদের তাড়াহুড়ো দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তাঁদের অভিযোগটা কতটা সারবত্তাহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই বিতর্কের মধ্যেই আজ মুখ খুলেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট। লন্ডনে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফিরে এসেই ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে তিনি টুইটে লিখেছেন, আপনারা যদি আমাকে ইমপিচ করতে চান, তা হলে এখনই করে ফেলুন। ইমপিচমেন্ট শুনানির ফলে রিপাবলিকানরা একজোট হয়েছেন। আমরাই জিতব।

প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, নিষ্কর্মা ডেমোক্র্যাটরা গত কাল হাউসে ঐতিহাসিক ভাবে খুবই খারাপ দিন কাটিয়েছেন। ওঁদের হাতে ইমপিচমেন্ট করার মতো কোনও মালমশলা নেই, দেশকে ছোট করে চলেছেন ওঁরা। কিছুতেই কিছু এসে যায় না ওঁদের। ওঁরা পাগল হয়ে গিয়েছেন। তাই বলছি, যদি আমাকে ইমপিচ করতে হয়, দ্রুত করে ফেলুন। যাতে আমরা সেনেটে একটা স্বচ্ছ বিচার দেখতে পাই এবং আমাদের দেশ রোজকার কাজেকর্মে ফিরতে পারে।