একের পর এক ধর্ষণ-হত্যা, বিপাকে মোদি সরকার

দেশের অর্থনীতির চরম অবস্থা নিয়ে বেশ বিপাকেই রয়েছে মোদি সরকার। তার উপর আবার সাম্প্রতিক সময়ে হাতছাড়া হয়েছে কয়েকটি রাজ্য। এমন অবস্থায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে একের পর এক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা।

গত সপ্তাহে হায়দরাবাদে এক চিকিৎসক তরুণীকে গণধর্ষণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠে গোটা ভারত। জায়গায় জায়গায় আন্দোলনও হতে দেখা যায়।

বিরোধীরা সুর চড়াতে থাকে সরকারের দিকে। তাদের দাবি, সরকার নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। এরইমধ্যে ওই ঘটনায় জড়িত চার ধর্ষককে এনকাউন্টারে দেওয়া হয়। তাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করলেও তীব্র রাজনৈতিক চাপে পড়তে হয় মোদি সরকারকে।

কারণ বিচারবহির্ভূত হত্যাকে ভালোভাবে নেয়নি দেশটির সুশীল সমাজ। তারা মনে করছে, একটি দেশে যখনই বিচার ব্যবস্থার উপর থেকে মানুষের আশ্বাস উঠে যায় তখনই এমন ঘটনা ঘটে।

এ অবস্থার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে গণধর্ষণের শিকার এক তরুণীতে সাক্ষী দিতে যাওয়ার সময় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভে, প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে উন্নাও।

বিধান ভবনের সামনে শনিবার সকাল থেকেই ধর্নায় বসেছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমাজবাদী পার্টি (সপা) নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব। ধর্না শুরুর আগে ভিকটিমের জন্য দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

উন্নাওয়ে সকালেই ভিকটিমের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিোঙ্কা গান্ধী বঢরা। তিনি বলেছেন, যাঁরা প্রথমে এফআইআর নিতে অস্বীকার করেছিলেন সেই পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যোগী আদিত্যনাথের সরকার কেন এখনও কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি?

উন্নাওয়ে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর প্রশ্ন, উন্নাওয়ে এর আগেও এমন ঘটনা (ধর্ষণ) ঘটেছে। তার পরেও কেন এ বার রাজ্য সরকার সতর্ক হল না। কেন এ বারের গণধর্ষিতার জন্য নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি? আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে কেন প্রাণ হারাতে হল?

গত জুলাইয়ে উন্নাওয়েই এক মহিলা যে বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেনেগারের বিরুদ্ধে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন, এ দিন সে কথাও মনে করিয়ে দেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এ দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমি মর্মাহত। বিচার মন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক বলেছেন, মামলাটিকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আজ আদালতে আর্জি জানাব। আমরা আদালতে মামলার রোজ শুনানিরও আর্জি জানাব। যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় মামলার। অপরাধীরা দ্রুত শাস্তি পায়।

তবে ভিকটিমের জন্য কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হল না, সেই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মোদি সরকারের ‘বেটি বাঁচাও’ কর্মসূচি নিয়েও। কারণ গত কয়েকদিনে বিজেপি শাসিত অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে একটি ধর্ষণে জড়িত ছিল পুলিশ। ধিারণা করা হচ্ছে সংসদ শুরু হলেই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হতে পারে