আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান!

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন দুই দেশের মধ্যে তৈরি হয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতির। যে কোনো সময় বড় ধরনের অগটনও ঘটে যেতে পারে।

একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরেনিয়াম (পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহুত কাঁচামাল) আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তানের পর ২০১৮ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি ইউরেনিয়াম আমদানি করেছে ইরান।

বেশিরভাগই আমদানি হয়েছে জার্মানি, চীন ও রাশিয়া থেকে। এ থেকেই ধারণা পরমাণু অস্ত্র তৈরি বাড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যে পরিমাণ পরমাণু কাঁচামাল সংগ্রহ করেছে তাতে ১৪০ থেকে ১৫০ টি ক্ষেণাস্ত্র বানানো সম্ভব।

আমেরিকার গোয়েন্দাদের একটি প্রতিবেদন বলছে, একে একে মিসাইলের ভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে ইরাকে। আর সেই ভাণ্ডার গড়ে তুলছে ইরান। ইরাকে গোলযোগের সুযোগ নিয়েই ইরান সেখানে গোপনে ব্যালিস্টিক মিসাইলের ভান্ডার গড়ে তুলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং ক্ষমতা জাহির করার জন্যই ইরান এই কাজ করছে বলে মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তারা।

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থগুলোতে ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় নতুন করে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পর ইরান এ তৎপরতা শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনার জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানকে দায়ী করেছে। গত মে থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ওই অঞ্চলে ১৪ হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে।

কিন্তু এখন ইরাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলার নতুন গোয়েন্দা তথ্যে এ আভাসই পাওয়া যাচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে নিবৃত্ত করতে চাওয়ার চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ওই অঞ্চলে ইসরায়েল, সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্রদেশ এবং অংশীদারদের জন্য একটি হুমকি।

তাদের ধারণা, গোপনে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইরান। যেসব অঞ্চলে আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের সামরিক ঘাটি আসে, সেসব এলাকাতেই গোপনে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে ইরান।