জ্বলছে ভারত, বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের উপর হামলা

নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় জ্বলছে ভারত। আসাম থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে গোটা ভারতে। ইতোমধ্যেই ত্রিপুরা, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ রণাঙ্গণে রূপ নিয়েছে। সিএবির আচ পড়েছে ভারতের সংসদসহ সর্বত্র। ধারণা করা হচ্ছে আরও বেশকিছু রাজ্যে ছড়াবে এ আন্দোলন।

শুক্রবার দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া আসাম এখনও অশান্ত, জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। ইতোমধ্যেই সেখান থেকে চারজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এরপরও আজ হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। যদিও সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি।

বিতর্কিত এ সিএবি আইনের বিরুদ্ধে উত্তাল ভারতের উত্তরপূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কর্তৃপক্ষ মেঘালয়ে ১২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ তুলে নিলে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য ভবনের কাছে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়লে সংঘর্ষ বেধে যায় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

মোবাইলে তোলা ভিডিওতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে আহত কয়েকজনকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

কলকাতা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন সংখ্যালঘু মানুষজন। পথে নেমে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন তাঁরা। লুবেড়িয়া, খড়দহ, ডায়মন্ড হারবার এবং মুর্শিদাবাদে স্থানীয়দের আন্দোলনের জেরে ব্যাহত হয় যান চলাচল। রেললাইনে অবরোধের জেরে বেশ কয়েকটি স্টেশনে বন্ধ ট্রেন চলাচলও। এমনকি হাওড়া থেকে কোনও লোকাল ট্রেন ছাড়ছে না বলেই জানা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, বিগত কয়েক ঘন্টা ধরে উলুবেড়িয়া স্টেশনে অবরোধ চলছে। বিক্ষোভকারী ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। তাতে ট্রেনের চালক গুরুতর জখম হন। তারপর উলুবেড়িয়া স্টেশনে রেললাইনের উপরে বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

যার জেরে ওই লাইনে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে ট্রেন চলাচল। গরুহাটা, পারিজাত এলাকাতেও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বাগনানের পরিস্থিতিও যথেষ্ট থমথমে বলে জানা গিয়েছে।

রক্তাক্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস ঘিরে প্রবল অসন্তোষের মুখে পড়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মোহন্ত। তাঁর দল অসম গণ পরিষদ (অগপ) সরকারের শরিক। তারা বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনীর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়েছেন বহু বিজেপি নেতা-বিধায়করা। কোনওরকমে পালিয়ে বাঁচেন অনেকে। সে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আসামের বিজেপি সভাপতি রণজিৎ দাসের বাড়ি ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।

জানা গিয়েছে উত্তেজিত জনতাকে দেখে প্রবল ভীত হয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন রণজিৎ দাস। এর আগে একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ আক্রান্ত হয়েছেন।গুয়াহাটির বিমানবন্দরে বিক্ষোভকারীরা ঘেরাও করে রেখেছিল মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালকে। পরে তাঁর বাড়িও ঘেরাও হন। আক্রান্ত হন বিজেপি বিধায়ক আঙুরলতা ডেকা সহ অনেকেই।